বান্দরবানে কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই বান্দরবানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ করাতকল। এসব করাত কলের কোনো কোনটিতে বনবিভাগের অনুমোদন থাকলেও বেশীরভাগ করাতকলের নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের পাশে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ করাতকলের কারণে ক্ষতির সম্মুক্ষিণ অফিস আদালত ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান শহরের বালাঘাটা, কালাঘাটা, নিউ গুলশান, ক্যাচিংঘাটা, উজানি পাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য করাতকল। এসব করাত কলে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে হাজার হাজার ঘনফুট কাঠ নিয়ে আসা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে গাড়ি লোড-আনলোডসহ কাঠ চিড়ানোর কাজ। করাতকল আইনানুযায়ী আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং প্রধান সড়কের পাশে করাতকল স্থাপনের কোনো নিয়ম না থাকলেও বনবিভাগের অনুমোদন নিয়েই চলছে কোনো কোনো করাতকল। শুধু তাই নয় এসব করাতকল স্থাপনে মানা হয়নি পরিবেশ আইনও। আর এসব করাতকলের উচ্চ শব্দ দূষণ ও ভারি যানবাহন চলাচলের কারনে প্রতিদিন ঝুঁিক নিয়ে যাতায়ত করছে হাজারো মানুষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী জানান, করাতকলের শব্দের কারণে আমরা রাতে লেখাপড়া করতে খুবই অসুবিধা হয়। এমনকি করাতকল গুলো রাস্তার পাশে হওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াত করতে সমস্যা হয়। যেকোন সময় গাড়িতে গাছ লোড-আনলোড করতে গিয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনাও হতে পারে। তাই এসব করাতকলগুলো আবাসিক এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র স্থাপনের জন্য দাবি জানান শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা।
এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ফখর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বান্দরবানে ৪০টির বেশি করাতকল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি করাতকলের বন বিভাগের অনুমোদন থাকলেও বেশির ভাগ করাতকলের পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেই। এসব করাতকলের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।
তবে বান্দরবান এর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হক মাহবুব মোরশেদ বলেন, করাতকল আইনে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক না। তারপরেও আমরা অধিকতর যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করেছি। তিনি আরও বলেন, বান্দরবানে যেসব অবৈধ করাতকল আছে সেগুলোর বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ে এসব অবৈধ করাতকলের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে বান্দরবান জেলায় ৪০টির বেশী করাতকল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি করাতকলের অনুমোদন থাকলেও বেশীরভাগ করাতকলেরই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।









