- বাধা আর্থিক সংকট: এফবিসিসিআই সভাপতি
- কাঁচামালের মজুদ রাখতে হবে: মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
- বিকল্প বাজার দেখতে হবে: এ কে আজাদ
পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের ভাবিয়ে তুলছে ওমিক্রন নামে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন ভ্যারিয়েন্ট বড় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সেজন্য আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পোশাকখাতে নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে আগে ভাগেই পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ওমিক্রনের কারণে শিল্পখাতে তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে।
গত দুইবারের করোনার ঢেউয়ের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে পদক্ষেপ নিতে শিল্প মালিকদের বলা হলেও তারা তা পারছেন না। কারণ করোনার আর্থিক ক্ষতি এখনো তারা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। অনেকে আর্থিক সংকটে আছেন। ওমিক্রন মোকাবেলায় আগে থেকেই কাঁচামাল মজুদসহসহ অন্যান্য প্রস্তুতি নিতে বিশেষ তহবিল গঠন করে ৩ বা ৪ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী এ নেতা।
ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন আমাকে
করোনার নতুন ঢেউ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বাংলাদেশ রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি মো. হাতেম বলেন, প্রথমবারের ঢেউয়ে লকডাউনে কাঁচামাল নিয়ে জাহাজ সময়মতো বন্দরে পৌছাতে না পারায় কাঁচামালের অভাবে আমার তৈরি পোশাক শিল্পের কারখানা ৫ দিন বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে অনেক দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রণের কারণে যাতায়ত সীমিত করা হয়েছে। এতে সেসব দেশে কাঁচামালের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছি। দ্বিতীয়বারের আঘাতে আর্ন্তজাতিক বাজারে কোনো পণ্য বিক্রি করতে পারিনি। পুরানো অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে যায়। ওমিক্রণের কারণে তৃতীয় ঢেউ এলে তা সামলাতে অন্তত ছয় মাসের কাঁচামাল আগেই কিনে মজুদ রাখা দরকার বলে মনে করছি। তবে করোনায় বেচাকেনা ভালো না হওয়ায় লোকসানে আছি। তাই তৃতীয়বারের বিপর্যয় এড়াতে কাঁচামাল কেনার জন্য পর্যাপ্ত পুঁজি নেই।
রফতানিমুখী শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন আনন্দবাজারকে বলেন, গেল কয়েক মাসে রফতানির ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা হলেও পোশাক কারখানাগুলো এখনও ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ওমিক্রনের আগমনে বৈশ্বিক অর্থনীতি এরই মধ্যে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। গতবছরের মতো এই বছরেও বড়দিনের বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কারখানাগুলো তাদের উৎপাদন চালিয়ে নিতে হুমকির মধ্যে পড়বে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম আনন্দবাজারকে বলেন, তৃতীয় ঢেউ মোকাবেলায় আগেভাগেই তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিটি কারখানায় কাঁচামালের মজুদ করে রাখতে হবে। এতে তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর আমদানি রফতানি কমে বা বন্ধ হয়ে গেলেও কাঁচামালের সংকট হবে না। আমাদের দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের বড় বাজার চীন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। করোনায় প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রি কমে যায়। লকডাউন থাকায় স্থানীয় বাজারে দোকানপাট বন্ধ থাকায় বিক্রি প্রায় বন্ধ ছিল।
এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি ও পোশাকখাতের প্রতিষ্ঠান হামিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে আজাদ বলেন, ওমিক্রন কোন দেশে বা কোন এলাকায় বাড়বে তা কেউ আগে জানে না। যেখানে বাড়বে সেখানে লকডাউন দেয়া হলে বিকল্প বাজারে বিক্রিতে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যদি কারো পণ্য ইউরোপ, আমেরিকায় বিক্রি হয় তবে তার অবশ্যই চীন, জাপান, তাইওয়ান, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য দেশে ক্রেতা খুঁজতে হবে। একইভাবে যদি চীনে বিক্রি হয় তবে অবশ্যই ইউরোপ, আমেরিকা, ভারতে ক্রেতা ঠিক করে রাখতে হবে। এ কে আজাদ আরো বলেন, আর্ন্তজাতিক বাজারের পাশপাশি স্থানীয় বাজারেও পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। করোনার দুইবারের ঢেউয়ে প্রায় প্রতিটি কারখানায় লোকসান কমাতে কর্মী ছাটাঁই করা হয়। অনেক কর্মীর বেতন কমিয়ে দেয়া হয়। ছোট বড় কোনো কারখানায় নতুন নিয়োগ নেই। এতে কাজ হারানো কর্মীরা ভয়াবহ আর্থিক সংকটে আছে। যাদের বেতন কমিয়ে দেয়া হয়েছে তারাও কষ্টে আছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নিবার্হী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ওমিক্রণের ঢেউ মোকাবেলায় আগেভাগে প্রস্তুতি থাকলে দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ যেখানে কাজ করে সেই তৈরি পোশাক খাতে কর্মী ছাটাই এড়ানো সম্ভব হবে। কর্মী ছাঁটাই না করার শর্তে সরকারকে অবশ্যই বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে কারখানাগুলোকে মুনাফায় রাখতে সহায়তা করতে হবে।
আনন্দবাজার/শহক









