করোনার প্রভাবে ঘরে বসেই দিন কাটাচ্ছে হাজার হাজার মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়ছে তাদের জীবনযাপন। হতাশার ছাপ তাদের চোখে-মুখে। প্রতিবার কোরবানিকে সামনে রেখে এসব ব্যবসায়ীরা ৩-৪ মাস আগে গরু কিনে মোটাতাজাকরণ করতেন। তবে এবার দেশের সব হাটবাজার বন্ধ থাকায় কেনাবেচাও হচ্ছে না কোনো গরু। ফলে এসব ব্যবসায়ীরা পড়েছে চরম সঙ্কটের মুখে।
এদিকে অনেকেই মনে করছে, এবারের কোরবানিতে পশুর দাম বাড়তি থাকবে। কারণ যারা কোরবানিতে পশু সরবারহ করতো তারা এবার বেকার হয়ে পড়ছে। ফলে কোরবানির সময় গরু সঙ্কটে পড়বে এবং চাহিদা বেড়ে যাবে। এতে দামও বাড়তি থাকবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী গরু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যখন থেকে তারা গরু কেনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তখন থেকেই সারাদেশে লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। কোরবানির আগে গরু কেনাকে কেন্দ্র করে অনেকে বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে গরু কেনার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে হাট বাজার ও দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় তাদের আর গরু কেনা হয়নি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ব্যবসা না করতে পারায় অভাব বাড়বে। কয়েক দিন পড়ে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। এছাড়া এবার কোরবানিতে চড়া দামে গরু বিক্রি হবে।
আশিক নামের এক গরু ব্যবসায়ী বলেন, কোরবানিকে সামনে রেখে একটা ব্যবসার মৌসুম শুরু হয়। হাজার হাজার মানুষ কোরবানির ৩-৪ মাস আগে গরু কিনে মোটাতাজাকরণ করে বিক্রি করে। কুষ্টিয়ার আরেক ব্যবসায়ী মো. আলিম জানান, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে ২০-২৫টি গরু নিয়ে আসতেন হাজারীবাগ গরুর হাটে। এবার একটি গরুও কিনতে পারেননি।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার জানান, সারাবিশ্বে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে আমরাও সে পরিস্থিতির শিকার। কোরবানির ২-৩ মাস আগে অনেক ব্যবসায়ীই গরু কিনে মোটাতাজাকরণের পর বিক্রি করতেন। কিন্তু এবার হাজার হাজার ব্যবসায়ী কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে পারছে না। যারা একেবারে বেকার জীবন কাটাচ্ছে তাদের জন্য সরকার সাহায্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া এবার কোরবানির পশুর সংখ্যা নির্ণয়ে মাঠ পর্যায়ে জরিপ চলছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যেই রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
আনন্দবাজার/রনি









