- শুল্ক কমাতে এনবিআরের কাছে আবেদন
- আবেদনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে এনবিআর
সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশীয় প্লাস্টিক শিল্পে খরচ বেড়েছে। দেশীয় প্লাস্টিক খেলনা আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এতে প্লাস্টিক খেলানা তৈরির উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশসহ মোট শুল্ক ও করসহ প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, শুল্ক কাঠামোর ফলে দেশি প্লাষ্টিক খেলনা শিল্প সংকটে পড়েছে। আরোপিত রাজস্ব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। শুল্ক প্রত্যাহারে আবেদন জানিয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) পক্ষ থেকে উদ্যোক্তরা এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিম বরাবর আবেদন জানিয়েছেন।
ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন আমাকে
আবেদনে বিপিজিএমইএ’র সভাপতি সামিম আহমেদ বলেছেন, প্লাস্টিক শিল্পের খেলনা শিল্পের উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিকালে শুল্কায়নে উদ্যোক্তারা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশীয় শিল্পের উপকরণ ও যন্ত্রাংশের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক-কর আরোপ নতুন বিনিয়োগে বাধা আসবে। তাই শ্রমধন খেলনা শিল্প রক্ষায় শুল্ক অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানানো হয়।
খেলনা প্রস্তুতকারদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বর্তমান সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ব্যবসা বান্ধব ও গণমুখী সিদ্ধান্ত নেয় হয়। স্থানীয় শিল্পের বেশ কয়েকটি খাতের সহায়তায় শিল্পের উপকরণের যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতির ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও আমদানি শুল্ক ছাড় দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রফতানি খাতে সম্ভাবনাময় খেলনা শিল্প
ওই সহায়তা নীতির ধারাবাহিকতায় প্লাস্টিক শিল্পের উপ-খাত খেলনা প্রস্তুতকারীদেরজন্য গত ২৭ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেই প্রজ্ঞাপনে খেলনার উপকরণ আমদানিতে রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ বিদ্যমান থাকায় উপকরণের ওপর সর্বমোট আমদানি শুল্ক ও করাদির পরিমাণ হয়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। এর ফলে উপকরণে এমন শুল্ক পরিশোধ করে স্থানীয় শিল্প সংকটে পড়েবে।
খেলনার শুল্ক জটিলতা বিষয়ে জানতে এনবিআর সদস্য (শুল্কনীতি ও আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া আনন্দবাজারকে বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনা এসেছে। বিষয়টি আমরা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছি।
শ্রমঘন শিল্প খেলনা খাতে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি খেলনার বিশ্ববাজারের আকারও বিশাল। মজুরি কম হওয়ায় বিদেশি খেলনা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশে কারখানা স্থাপন করছে। প্লাস্টিকের পুতুল থেকে শুরু করে গাড়ি, ফিশিং গেম, গিটার, রাইফেল, অ্যাম্বুলেন্স, মোবাইলসহ বিভিন্ন যন্ত্রের রেপ্লিকার মতো খেলনা দেশেই তৈরি হচ্ছে। দেশীয় পর্যায়ে ১৫০০ ধরনেরও বেশি খেলনা বানানো হচ্ছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১০ লাখ মানুষ।
আনন্দবাজার/শহক









