- বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি সহায়ক পরিবেশ
- ১৯৯৫ সালে বিনিয়োগ ছিল ২৮৬ বিলিয়ন ডলার
- ২০০০ সালে দাঁড়ায় ৮১৬ মিলিয়ন ডলারে
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আগের চেয়ে বেড়েছে
বাংলাদেশ এমন একটি ভৌগলিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে যেখানে বিশ্বের যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্য সহায়ক পরিবেশ রয়েছে। সস্তা শ্রম ও জমি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জল, স্থল আর সড়ক পথে যোগাযোগে বিস্তৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি বর্তমানে নানা ধরনের ভ্যাট, ট্যাক্সে ছাড় দিচ্ছে সরকার। এমন বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের লভ্যাংশ নিজ দেশে নিয়ে যেতে পারবেন সহজেই।
এমনটাই বলছেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, বিদেশে বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ১১টি প্রধান খাত রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বিদেশিদের জন্য বিনিয়োগের জন্য এসব খাত উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে দেশি বিনিয়োগকারীরাও এসব খাতে বিনিয়োগের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আগের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার পথ গেছে খুলে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২৮৬ বিলিয়ন ডলার সেখানে ২০০০-০১ অর্থবছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৮১৬ মিলিয়ন ডলারে। সে সময়ে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৬০০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪২০০ মেগাওয়াটে। তবে গেল দুই দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে গিয়ে বর্তমানে প্রায় শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খাতে গতি এসেছে। চীন-ভারতের বাজারে রফতানির পরিধি আরো বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভবনাময় খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো নির্মাণ, পুঁজিবাজার ও ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রনিক্স উৎপাদন, চামড়া- স্বয়ংক্রিয়করণ ও হালকা প্রকৌশল শিল্প। এছাড়া কৃষিপণ্য ও খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ, পাট-বস্ত্র ও ব্লু ইকোনমিসহ আরো অনেক খাত। সব মিলিয়ে ১১টি খাতে বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক অঞ্চল সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন-২০১০ এর বিধানানুসারে সে বছরের ৯ নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে কাজ করছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে এখানে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিদেশিদের বিনিয়োগ সহজ করতে ২০৩০ সালের মধ্যে গড়ে তোলা হবে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল। ইতোমধ্যে ৯৭টি অনুমোদন পেয়েছে। এসব অঞ্চলে ২৭.০৭ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবনা এসেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ইনকাম ডেক্স হলিডে ১০ বছর। ইনকাম টেক্স ইক্সেমশন অন ডিভিডেন্ট ১০ বছর। রয়েছে ইনকাম টেক্স ইক্সেমশন অন রয়ালিটিস, টেকনিকেল এসিস্টেন্স ফিস ১০ বছর। তাছাড়া ১০০ শতাংশ ডিউটি ফ্রির আওতায় রয়েছে আমদানি, কনস্ট্রাকশন মেটিরিয়ালস। ইনকাম টেক্স ইক্সেমশন অন ক্যাপিটেল গেইন্স ফ্রম ট্রান্সফার শেয়ার ১০০ শতাংশ করা হয়েছে। যাতায়াতে সড়ক, নৌপথসহ বিভিন্ন সুযোগের ব্যবস্থা রয়েছে।
অপরদিকে, দেশে দক্ষ-মানবসম্পদ সৃষ্টি, আকর্ষণীয় প্রণোদনার মাধ্যমে উদার বিনিয়োগ-নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। ভৌগোলিকভাবে এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব-এশিয়ায় অবস্থানের কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দিন দিন গুরুত্ব বাড়ছে। কাজে আস্থার ফলে ৬০ শতাংশের বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।
আনন্দবাজার/শহক









