করোনা আতঙ্কে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ থাকা এ বছর ইলিশ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। ভাইরাসের প্রভাবে সমুদ্র দূষণমুক্ত থাকা, নদ-নদীতে ৬৬ দিন লঞ্চ বন্ধ থাকা এবং অবৈধ মাছ শিকার নিয়ন্ত্রণে থাকায় এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছে। সূত্র জানায়, ২০১৯-২০২০ সমাপ্ত অর্থবছরে সেই রেকর্ড ভেঙে এখন পর্যন্ত ইলিশের উৎপাদন ৫ লাখ ৩৩ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত ১১ বছরের ব্যবধানে দেশে ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৮৪ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। বর্তমানে ১২৫ থেকে ১৩০টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ইলিশের অভয়াশ্রম। ক্রমবর্ধমান ইলিশ উৎপাদনের এই প্রবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে ইলিশ উৎপাদনের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে ইলিশ উৎপাদনেও বাংলাদেশ রয়েছে প্রথম স্থানে।
এদিকে সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও নদীতে বৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরায় কোনো বাঁধা নেই। জেলারা বলছেন-এবার জালে ধরা পড়ছে বড় বড় ইলিশ।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়-তিন বছরে ইলিশের দাম কমেছে প্রায় দেড়শ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ১ কেজি বা তার ওপরে ইলিশ পাওয়া যেত মাত্র তিন শতাংশ, ২০১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় পাঁচ শতাংশে। ২০১৯ সালে তা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১০ শতাংশ। অর্থাৎ তিন বছরে বড় ইলিশের প্রবৃদ্ধি ৩০০ শতাংশেরও বেশি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী ও নেতা জানান, আমরা মাছ শিকার না করতে পারলেও অবৈধভাবে বাংলাদেশের সীমানায় এসে মৎস্যদস্যুরা মাছ শিকার করে নিয়ে যায়।
এদিকে ভারতের গণমাধ্যম জানায়, সেখানে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। পশ্চিমবঙ্গ, হাওড়া, হুগলি ও মুর্শিদাবাদে গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশের দামও অনেক কম।
ইলিশ গবেষক ও মৎস্য বিজ্ঞানী চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান জানান, এ বছর নদীতে মাছের খাবার ভালো রয়েছে। সব স্থানের জলাশয়ে খাদ্য প্রচুর থাকায় ইলিশসহ সব মাছ দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে। ইলিশ উৎপাদনে এ বছর পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









