আগুন লাগলে ঘর থাকে আর নদীর ভাঙলে ঘরভিটাও থাকে না। এ পর্যন্ত তিন বার নদীগর্ভে মোর সব নিয়ে গেছে। মোগো কষ্ট দেখার মতো কেউ নাই। কান্নাজড়িত কন্ঠে এ কথা বলছিলেন খলিল মিয়া। তিনি আরও বলেন, আমার ফসিল জমি ২ একর। এ কারখানা নদীর গর্ভে বিলিয়ন হয়ে গেছে শুধু ফসলি জমি নয়, আমাদের বসত ঘর ৩ বার নদীর গর্ভে বিলিয়ন হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার কারখানা নদী গ্রাস করেছে প্রায় দেড় হাজার বসতবাড়ি, ১৫শ’ একর ফসলি জমি। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে স্থানীয় একটি বাজার। এ ছাড়াও ১টি সড়ক ও ২টি বিদ্যালয়। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শিয়ালঘুনী টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজন্ট কলেজ ও শিয়ালঘুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্ষার শুরুতে ফের আগ্রাসী হয়ে উঠছে কারখানা নদী। স্থানীয়রা বলছে, যে কোনো সময় নদীর মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে বিদ্যালয় ২টি।
হুমকির মুখে রয়েছে নতুন করে গড়ে উঠা কবাই বাজার, ৪নং দুধল ইউনিয়ন শতরাজ বাজার যে কোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী বসতবাড়ি হারিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে রাস্তার ওপর দিন কাটছে শতাধিক পরিবার।
সরেজমিন দেখা যায়, বর্ষার শুরু থেকেই আবারও ভয়াবহ হয়ে উঠছে কারখানা নদী। ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি এখনই ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো মুহুর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে নদীগর্ভে শিয়ালঘুনী টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজন্ট কলেজ ও শিয়ালঘুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয় বাসিন্দা জলিল হাওলাদার জানান, গত বর্ষার মধ্যদিকে ওই বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়। এতে কোনোরকম টিকে আছে বিদ্যালয় ২টি। তারপরও নদীর তীব্র স্রোতে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বর্ষায় ওই দুটি গ্রামের দেড় শতাধিক বসতবাড়ি ও ১০০ একর ফসলি জমি নদীতে গেছে। এতে ওই এলাকার অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বাজারে, নদীর পাড়ে, রাস্তার পাশে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ দিকে শিয়ালঘুনী বাজারে রয়েছে অন্তত দেড়শ দোকানপাট। যা নতুন করে আবারও ভাঙনের কবলে।
স্থানীয় লোকজনের তথ্যমতে, রফিক খান, খলিল ফকির, মজিত হাওলাদার, সজিব তালুকদার, ছকু তালুকদার, নূর ইসলাম সরদারসহ দুই গ্রামের শতাধিক পরিবার গত এক বর্ষায় তাদের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত বর্ষায় নদী ভাঙনের শিকার কবাই বাজারে ব্যবসায়ী হালিম মৃধা জানান, তিনবার নদীতে বিলীন হয়েছে বসতবাড়ি। প্রায় ৩৫ একর ফসলি জমি ছিল, সবই এখন নদীতে। সর্বশেষ ২ একর ৫৬ শতাংশ জমিতে ছিল বসতবাড়ি। ওই বসতবাড়ির ফলফলাদি বিক্রি করেই সংসার চলে যেত। তা নদীতে ভেঙে এখন ১৫ শতাংশ আছে। ওই জমিতে এক কোনে ঝুপড়ি ঘর তুলে তার পরিবার বসবাস করছে। যে কোনো মুহুর্তে তা নদীতে যেতে পারে। শহিদ তালুকদার বলেন, আমাদের ৭৫ শতাংশের ওপর বসতবাড়ি ছিল। তা নদীতে ভেঙে এখন আমরা পথের ফকির।’
কবাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল তালুকদার জানান, ‘ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। ভাঙনরোধে বড় ধরনের বরাদ্দ দরকার। না হলে আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা এবারের বর্ষায় নদীগর্ভে বিলিয়ন হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে আমাদের ইউনিয়নের নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পায়।
এবিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসাক জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে বাকেরগঞ্জের নদী ভাঙনে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে যারা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা করে সাহায্য দেয়া হবে।









