- বন্ধ কোটি টাকার লেনদেন
পদ্মা সেতুর ফলে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটে কোটি টাকার লেনদেন বন্ধ হওয়ায় ৩০ বছরের পুরনো ঘাট এখন সুনশান নিরবতা। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ঘাটটি হারিয়েছে তার চিরচেনা রূপ। বেকার হয়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন ঘাটে কর্মরত লঞ্চ ও স্পিডবোট চালকরা। যদিও জেলা প্রশাসক বলছেন, এসব শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ত্রিশ বছর ধরে লঞ্চ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হারুণ মিয়া। ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালুর পর বন্ধ হয়ে যায় লঞ্চ চলাচল। সেই থেকে বেকার বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে। রাতদিন দিচ্ছেন লঞ্চ পাহারা। লঞ্চ ব্যবসায়ী হারুণ মিয়া বলেন, আমি ঘাট শুরু থেকেই লঞ্চ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। লঞ্চ ব্যবসা করে আমরা ৭ থেকে ৮টি পরিবার বাঁচতাম। আরা কি করে বাচবো কোনো রাস্তাই খুঁজে পাচ্ছি না। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার কারণে আমরা অনাহারে চলতেছি। খুবই সমস্যা। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি আমাদের বিকল্প একটা ব্যবস্থা করে দিক। আমরা যাতে পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে পারি।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে যেখানে লঞ্চের সাইরেন আর হাজার হাজার মানুষের কোলাহলে মুখরিত থাকতো ঘাট। সেখানে এখন কেবলই সুনশান নিরবতা। নেই আগের মত ব্যস্ততা। যাত্রীশূণ্য হওয়ায় সারিবদ্ধভাবে লঞ্চগুলো নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে পদ্মার পাড়ে। কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার শ্রমিক।
সেলিম শেখ, লোকমান হাওলাদার ও আবুল কাশেমসহ অধিকাংশ ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের লঞ্চ বন্ধ। আমরা আমাদের স্টাফ বিদায় করে দিয়েছি। আমরা এখন কি করে খাবো। একবার সরকার আমাদের নামের তালিকা করে নিয়েছে তারও কোনো হদিস নাই। আমরা সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি, দেখি সরকার আমাদের কি করে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, পদ্মা সেতুকে ঘিরে পদ্মার দুইপাড়ে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কল কারখানা গড়ে উঠলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বেকার শ্রমিকরা।
উল্লেখ্য, মাদরীপুরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চ, দেড় শতাধিক স্পিডবোট ও ১৭ থেকে ১৯টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করতো। যেখানে প্রতিদিন পারাপার হতেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। দেশের বৃহৎ এ নৌরুট বাংলাবাজার ঘাটটি বন্ধ হয়ে গেলেও চালু রয়েছে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও শরিয়তপুরের মাঝিরকান্দি নৌরুট। সেখানে সীমিত পরিসরে চলাচল করছে ফেরি, তবে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল।









