সারমিন বেগম। ২০০৬ সালে একটি কোম্পানিতে ১০ বছর মেয়াদী বীমা করেন। ২০১৭ সালের শুরুতে মেয়াদ শেষ হয়। তবে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে নানা চেষ্টা করেও বীমার দাবি বুঝে পাননি। অফিসে গেলে হয়ে যাবে, দিবো, দিচ্ছি বলে হয়রানী করা হয়। এভাবে প্রায় তিন বছর পর জানতে পারেন তার বিমা দাবির টাকা অফিসের কর্মকর্তারা তুলে নিয়ে গেছেন বহু আগে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় টাকা বুঝে পান তিনি।
বীমা খাতের ওপর আস্থাহীনতা তৈরি হওয়ার গল্প এটা একটা। এমন অনেক গল্পই আছে এ খাত ঘিরে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাইম ইন্সুরেন্স কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট নুর-উল-আলম আনন্দবাজারকে বলেন, বীমা দাবি পরিশোধে ভোগান্তির কারণে বীমার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। যেকারণে কোম্পানিগুলো অগ্রসর হতে পারছে না।
নুর-উল-আলম আরো বলেন, আস্থাহীনতার মূল কারণ হচ্ছে সময়মতো বীমা দাবি পরিশোধ করতে না পারা। এর পেছনে সবচেয়ে বড় যে কারণ তা হচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সীমাবদ্ধতা। তাদের নিজস্ব তেমন কোনো জনবল নেই। যে কারণে তারাও সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। তবে এর বাইরে কিছু কিছু কোম্পানি ভালো সেবা নিশ্চিত করছে। যে কারণে এখনও দেশে বীমা কোম্পানিগুলো টিকে আছে।
যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান আনন্দবাজারকে বলেন, জনগণের সচেতনতার অভাব, বিদেশি কোম্পানির প্রতি আগ্রহ, বীমার প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে এদেশে এখনও বীমার ব্যাপক বিস্তার ঘটেনি। তবে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতার কারণে ইদানিং বীমার ব্যাপকতা কিছুটা বাড়ছে। এছাড়াও বীমা দিবস পালন, জনগণের মধ্যে প্রচার ও প্রসারের জন্য বীমামেলার আয়োজন বীমাশিল্পে ব্যাপকতা এনেছে।
আইডিআরএ এক কর্মকর্তা বলেন, গ্রামের গরিব মানুষ খুব কষ্ট করে টাকা জমা দিয়েছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও কিছু কিছু কোম্পানি পলিসির টাকা না দিয়ে বিভিন্ন ভাবে গ্রাহককে হয়রানি করছে। আমরা প্রতিটি কোম্পানির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে কঠোর বার্তা দিয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বীমাখাতকে এগিয়ে নিতে হলে গ্রাহকের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধের বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন তারা।
আনন্দবাজার/শহক








