- বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী পাম তেলের দাম
- বিশ্ববাজারে কমলেও এখনও প্রভাব পড়েনি খুচরায়
বিশ্ববাজারের দোহায় দিয়ে কিছুদিন আগে এক লাফে তেলের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়। এতে চরম বিপাকে পড়ে সাধারণ মানুষ। দামে লম্বা লাফ দেয়ায় বেতনে আর কুলাতে পারছিলেন না তারা। আবার বিশ্বের সর্বাধিক পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়াও বন্ধ করে দেয় রপ্তানি। এতে বিপাকে পড়ে হা-হুতাশ করে মানুষ। তবে গত সোমবার থেকে রপ্তানি শুরু করায় কপালের ভাঁজ কিছুটা কমেছে। ভোজ্যতেলের দামে স্রোত কিছুটা ভাটার দিকে যাচ্ছে।
গত মার্চে পাম অয়েলের মাসিক গড় বুকিং দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৭৭৭ ডলার। এপ্রিলে দাম ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে গড় বুকিং মূল্য দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৮২ ডলারে। গত ২৩ মে কমে টনপ্রতি ১ হাজার ৪২০ ডলারে স্থির হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রপ্তানি শুরু করায় ফিউচার মার্কেটেও পণ্যটি কম দামে বুকিং দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করলেও পণ্যটির বিশ্ববাজার নাটকীয়ভাবে স্থিতিশীল থাকে। দেশটি ফের রপ্তানি চালু করলে পাম অয়েলের দাম কমতে থাকে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত পাম অয়েলের বুকিং দর আরো কমে গেছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি শুরুর ঘোষণা আসায় মালয়েশিয়ান মার্কেটেও পাম অয়েলের দাম পড়তির দিকে। ২৩ মে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল এক্সচেঞ্জে টনপ্রতি অপরিশোধিত পাম অয়েল লেনদেন হয়েছে ৬ হাজার ২৪৫ রিঙ্গিতে। যা আগের দিনের চেয়ে ১৬ রিঙ্গিত কম।
অন্যদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিনের টনপ্রতি দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৫ ডলার। এক মাসের ব্যবধানে সয়াবিনের টনপ্রতি দাম প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৫৭ ডলারে উঠে যায়। এপ্রিলে দাম কিছুটা কমে ১ হাজার ৯৪৭ ডলারে নামলেও সর্বশেষ বুকিং দর আরো কমে ১ হাজার ৭৮৪ ডলারে ঠেকেছে।
বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও দেশের পাইকারি বাজারে এখনো কোনো প্রভাব পড়ছে না। ইন্দোনেশিয়া থেকে রপ্তানি শুরুর ঘোষণা এলে দাম কিছুটা কমলেও পাইকারি বাজারে গত দুইদিনে খোলা পাম অয়েলের দাম মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা বেড়ে গেছে। অর্থাৎ দুইদিন আগেও মণপ্রতি পাম অয়েল (এসও পর্যায়ের দাম) ৫ হাজার ৮০০ টাকায় লেনদেন হয়েছিল। গত সোমবার মণপ্রতি পাম অয়েলের দাম ৬ হাজার ৩৮০ টাকায় উঠে গেছে। এছাড়া পাইকারি পর্যায়ে পাম অয়েল লেনদেন হচ্ছে ৬ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার ৮০০ টাকায়। বর্তমানে সয়াবিনের এসও পর্যায়ের দাম ৭ হাজার টাকা হলেও পাইকারি (সরাসরি বিক্রয়যোগ্য) বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ৫০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে যে দামে খোলা পাম অয়েল ও সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে সেটি মিল মালিকদের নির্ধারিত দামের চেয়েও কম। ফলে বিশ্ববাজারে দামের উত্থান-পতনের সঙ্গে পাইকারি বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি কার্যকর নয়। বর্তমান পাইকারি বাজারের পাম অয়েল ও সয়াবিনের দাম নির্ধারিত দামের চেয়েও কম হওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না।
সর্বশেষ গত ৫ মে ভোজ্যতেল আমদানিকারকদের সংগঠন দেশে ভোজ্যতেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করে। ওই সময়ে এক লাফে বোতলজাত সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা থেকে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও বর্ধিত অবস্থায় নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববাজারে দাম কমতে শুরু করায় ন্যূনতম এক মাস পর ভোজ্যতেলের বিপণন দর সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।









