করোনা ও আম্ফানের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালীর ফুলের বাজার। বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে সব ধরনের ফুলের দাম বেড়েছে। গতকাল শনিবার এ বাজারে অন্তত দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এর আগে কয়েকদিনে বিক্রি হয়েছে আরো তের কোটি টাকার ফুল। ধারণা করা হচ্ছে, তিনটি দিবসকে কেন্দ্র করে এবার অন্তত ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পাশে ঝিকরগাছার গদখালীতে বসে ফুলের বাজার। প্রতিদিন ভোর থেকে ওই অঞ্চলের চাষিরা বিক্রির জন্য ফুল নিয়ে আসেন। গেল ২ বছর করোনার কারণে তেমন বেচাবিক্রি হয়নি। এবারও সেই দুশ্চিন্তা ভর করেছিল তাদের। করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে সরকার বিধি নিষেধ আরোপ করায় লকডাউনের আশংকা করছিলেন চাষিরা। এজন্য তারা চোখে সর্ষে ফুল দেখছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত লকডাউনের মতো কঠোর বিধি নিষেধ না দেওয়ায় তাদের চোখেমুখে উৎসবের আমেজ বইছে।
সরেজমিনে গদখালীতে গিয়ে দেখা যায়, কাক ডাকা ভোর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরব হয়েছে। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা ফুলের পসরা সাজিয়ে বেচাকেনা করছেন শত শত ফুল চাষি। কেউ ভ্যান, কেউ সাইকেল বা ঝুড়ির মধ্যে ফুল রেখে স্থানীয় ও বাইরের জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দর কষাকষি করছেন।
বর্তমানে গদখালীতে সব ধরনের ফুলের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। মানভেদে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও বিক্রি হয়েছে মাত্র ১-৩ টাকায়। জারবেরা বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৮-১২ টাকায়। এছাড়া গাঁদা ফুল বিক্রি হচ্ছে প্রতি হাজার ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত। যা আগে ছিল ২০০-৩০০ টাকা।
পানিসারা গ্রামের ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন জানান, মানভেদে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, যা মাসখানেক আগেও ছিল মাত্র ১ থেকে ৩ টাকা। জারবেরা বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৮ থেকে ১২ টাকায়। গাঁদা ফুল প্রতি হাজার ৫০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত। যা আগে ছিল ২০০-৩০০ টাকা। তিনি আরও জানান, গত ২ বছর ধরে করোনার কারণে যে লোকসান হয়েছে এ বছর ফুল বিক্রি করে তা কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে হয়তো।
ফুল চাষি রবিউল ইসলাম জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে গোলাপের চাষ করেছেন। এখন গোলাপের দাম দ্বিগুণ। ১ দিন পরে আরও বাড়বে। ফুলের মান ধরে রাখতে গোলাপের কুঁড়িতে ক্যাপ পরিয়ে রাখা হয়েছে। যদিও এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে ৩ থেকে ৪ টাকা। ভালবাসা দিবসকে টার্গেট করে সেই ফুল বিক্রি হলে খরচ উঠে বাড়তি লাভ হবে।
গদখালীর ফুল চাষে প্রথমবারের মতো টিউলিপ চাষ করে সাড়া জাগিয়েছেন পানিসারার ফুল চাষি ইসমাইল হোসেন। তার ৫ শতক জমিতে ফুটেছে বিভিন্ন রঙের ৭ প্রকারের টিউলিপ ফুল। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে তার জমিতে টিউলিপ ফোটা শুরু হয়। ভালোবাসা দিবসে বিক্রি করা হবে এসব টিউলিপ ফুল।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, করোনায় সরকারের বিধিনিষেধে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। সব কিছু উপেক্ষা করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ফুলের বাজার। মানুষ ফুল কিনছে। ফেব্রুয়ারিতে এবার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে শনিবার এ বাজারে অন্তত দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। এর আগে কয়েকদিনে বিক্রি হয়েছে আরো তের কোটি টাকার ফুল। ধারণা করা হচ্ছে, তিনটি দিবসকে কেন্দ্র করে এবার অন্তত ২৫ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে।
ঝিকরগাছার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, দুই বছর করোনায় ফুল চাষিরা ব্যাপত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব ধরনের সমাবেশ ও অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ থাকায় তেমন ফুলের প্রয়োজন হয়নি। এবার বিধি নিষেধ থাকলেও সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এজন্য ফুলের বেচাকেনা হচ্ছে। ফুল চাষি ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গদখালী বাজার। সবমিলে ক্ষতিগ্রস্ত ফুল চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।









