আগামীকাল থেকে হাওড়ে ধান কাটা শুরু হবে। পাহাড়ি ঢল ও বন্যার আশঙ্কায় আগামী ২০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে ধান কাটার কাজ। আর সেজন্য প্রয়োজন ৬৬ হাজার অভিবাসী শ্রমিক।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এক গবেষণা জানায়, হাওড় অঞ্চলে এবার বোরো আবাদ হয়েছে নয় লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে। এর অর্ধেক সমতলে এবং বাকিটা মূল হাওড়ে। প্রায় ৮৪ লাখ মানুষের প্রয়োজন এসব জমির ধান কাটতে। কিন্তু সেখানে শ্রমিকের ঘাটতি ১৫ লাখের বেশি। ফলে এখন হাওড়ে প্রায় ৬৬ হাজার শ্রমিক প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, বিগত বছরগুলোতে হাওড়ে ধান কর্তন মৌসুমে কৃষি শ্রমিকের সংকট পরিলক্ষিত হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চলতি মৌসুমে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক যেতে পারছেন না সেখানে। ফলে এবার শ্রমিক সংকট আরো তীব্র হবে। এ অবস্থায় সংকট নিরসনে স্বচ্ছন্দে শ্রমিকের চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে কৃষি শ্রমিকের স্বাস্থ্য বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও সঠিক নির্দেশনা থাকতে হবে। হাওড় অঞ্চলে যেসব ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায় নিয়োজিত নয়, তাদের বোরো ধান কর্তনকালীন কৃষি শ্রমিকদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত করা যেতে পারে। এতে শ্রমিকদের মনে আস্থার জায়গা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে লাগিয়ে এলাকায় কৃষি শ্রমিক সংকট কিছুটা মোকাবেলা করা যেতে পারে। এছাড়া এলাকা উপযোগী বরাদ্দকৃত কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপারও সময়মতো কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁঁছাতে হবে। সম্ভব হলে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পরিবহনের মাধ্যমে কর্তন কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, শ্রমিক সংকট মেটাতে এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছেন মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। দেশের শ্রম উদ্বৃত্ত জেলাগুলো থেকে শ্রমিকদের হাওড় অঞ্চলে পাঠানোর জন্য তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা শ্রম উদ্বৃত্ত জেলা বিশেষ করে মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হাওড়ে শ্রমিক নিয়ে যাওয়ার তালিকা করেছে। এরই মধ্যে শ্রমিক যাওয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা তাদের তালিকা প্রস্তুত করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।
আনন্দবাজার/ টি এস পি









