রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ও নথিপত্র পরীক্ষা করে ৭৮টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বড়ো অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির সন্ধান পাওয়া গেছে। ফাঁকি হওয়া ভ্যাটের পরিমাণ ৩৮৯ কোটি টাকা। ফাঁকির এ তালিকায় অল্প পরিচিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানও আছে। এর মধ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বিমা কোম্পানি, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তালিকায় রয়েছে বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত এবং অফডকের প্রতিষ্ঠানও।
এনবিআর সূত্র অনুসারে জানা যায়, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নিরীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমেই উদ্ঘাটন হয়েছে সবচেয়ে বেশি ভ্যাট ফাঁকি। আলোচ্য সময়ে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে ২২৫ কোটি টাকার ফাঁকি বের হয়েছে। এর মধ্যে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি টাকারও বেশি। এছাড়া তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের ছয় কোটি টাকা ফাঁকি উদ্ঘাটনের বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। আর আকস্মিক অভিযানে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১৫৯ কোটি টাকা ফাঁকি উদ্ঘাটনের বিপরীতে আদায় হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের সবমিলিয়ে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি বের হয়েছে ৪৭১ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয়েছে ৩১ কোটি টাকা।
ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান জানান, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলমান আছে। আগামীতে ফাঁকি উদ্ঘাটনে আরো গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন উত্স থেকে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য বের করার ক্ষেত্রে নতুন করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে জোর দেওয়ার পাশাপাশি খাতভিত্তিক রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোকে নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে অধিক রাজস্ব ফাঁকির খাতগুলোকে চিহ্নিত করে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আনন্দবাজার/এফআইবি









