মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় কমেছে দেশের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই)। বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে ধসের প্রভাবে এফডিআইতেও নেমেছে ধস। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আংকটাডের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের প্রথম ভাগে বিশ্বে এফডিআই প্রবাহ কমেছে ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশের এফডিআই কমেছে ১৯ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার আংকটাড প্রকাশিত গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ট্রেন্ডস মনিটরে এ চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশে এফডিআই এসেছে ৫৮২.১৭ মিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে এফডিআই এসেছে ১০৩৫.৫৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ২০২০ সালে ২০১৯ এর চেয়ে এফডিআই কমেছে ৪৩.৭৮ শতাংশ কম।
আংকটাডের মূল্যায়নে বলা হয়, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় ১৯ শতাংশ কমে হয়েছে ১১৬৪.৩০ মিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালের এই সময়ে বিনিয়োগ আসে ১৪৩৭.০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বাংলাদেশে গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ প্রকল্প কমেছে ৭৮ শতাংশ। ভবিষ্যৎ এফডিআইয়ের প্রবণতা বোঝা যায় মূলত গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ প্রকল্পের ঘোষণা থেকে।
আংকটাডের বিনিয়োগ ও এন্টারপ্রাইজ বিষয়ক পরিচালক জেমস ঝান বলেন, আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও নাটকীয়ভাবে কমেছে এফডিআই। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বে। উন্নয়নশীল দেশগুলোও এ ঝড়ের কবলে পড়েছে, তবে বছরের প্রথম ভাগে উন্নত বিশ্বের চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে। বিশ্বে বিনিয়োগ সম্ভাবনা খুবই অনিশ্চিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এফডিআইয়ের বড় পতন হয়েছে উন্নত দেশগুলোতে। বছরের প্রথম ছয় মাসে উন্নত দেশগুলো ৯৮ বিলিয়ন ডলারের এফডিআই পেয়েছে, ২০১৯ সালের একই সময়ের চেয়ে যা ৭৫ শতাংশ কম। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইউরোপীয় দেশগুলোতে। বিশেষ করে বড় ধাক্কা খেয়েছে নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ড। এফডিআই ৫৬ শতাংশ কমে ৬৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই কমেছে ১৬ শতাংশ। চীনে বিনিয়োগ স্থিতিশীলতা ফেরায় হ্রাস প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম। এশিয়ায় এফডিআই কমেছে ১২ শতাংশ। বছরের প্রথম ভাগে এশিয়ায় বিনিয়োগ এসেছে ২১৭ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালের এই সময়ে বিনিয়োগ এসেছিল ২৪৬ বিলিয়ন ডলার। আফ্রিকায় এফডিআই কমেছে ২৮ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দেশগুলোতে কমেছে ২৫ শতাংশ।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









