নীলফামারীতে কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে গ্রামীণ জনপদে অর্থনীতির ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এখানকার নারীরা এক সময় অলস সময় পার করত, পরিবার-পরিজন ও সংসার নিয়ে। স্বামীর একার আয় দিয়ে সংসার চালানো ছিল খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার। এ প্রতিকূলতাকে সামনে রেখে সদরের লক্ষ্মীচাপসহ কয়েকটি ইউনিয়নে শত শত পরিবারের নারীকে স্বপ্ন চুড়া হস্তকুটির শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ দেয়। আর সেই প্রশিক্ষিত নারীরা সুফল পেতে শুরু করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পারিবারিক কাজ শেষে অবসর সময়ে নারীরা বাড়িতে বসেই কলার হোগলা ও পাট দিয়ে নিপুন হাতে তৈরি করছে মাদুর, আনিশা মাদুর, গোলাকার মাদুর, দেওয়াল মাদুরসহ ২০ ধরনের পণ্য। এ সকল কাঁচামাল আর্টিশান ও বিডিকেশান কোম্পানী ও মাঝে মধ্যে ফেনী, ভোলা, বরিশাল, কুমিল্লা থেকে আমদানি করে কারিগরদের সরবরাহ করেন উদ্যোক্তারা। তৈরিকৃত পণ্য বাবদ প্রতি মাসে কারিগররা পেয়ে থাকেন ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা এ টাকায় তাদের সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা, হয়েছেন স্বাবলম্বী, মুখে ফুটেছে হাসি।
কথা হলে পলাশবাড়ী ইউনিয়নের তরনীবাড়ি গ্রামের রাম প্রসাদের স্ত্রী কারিগর কনিকা রানী, নারায়ন চন্দ্রের স্ত্রী ফুলোবালা, রতন রায়ের স্ত্রী কনিকা রানী বলেন, আমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ পরিবারের কাজ শেষ করার পর অবসর সময়ে মাদুর, ফুলদানীসহ নানান জিনিস বানাই। এ থেকে প্রতিমাসে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা আয় করি, সংসারের কাজে খরচ করার পর হাতে টাকা জমাও থাকে আগের চেয়ে বর্তমানে দিন অনেক ভালো যাচ্ছে কোনো অভাব নাই।
এখানকার পণ্যগুলো মানসম্মত ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় জাপান, অস্টেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, আমেরিকা হংকংসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয় উদ্যোক্তা ও পরিকল্পনাকারী শংঙ্কর চন্দ্র রায় জানান, কারিগরদের কাছে পণ্যের কাচাঁমাল আমরা সরবরাহ করি এবং আমরাই সঠিক দামে তৈরি পণ্যগুলো ক্রয় করে বিদেশি বায়ারের কাছে বিক্রয় করে থাকি। এ কাজের মাধ্যমে যেমন এলাকার গ্রামীণ পরিবারগুলো হচ্ছে উপকৃত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। অপরদিকে আমাদের কয়েক বন্ধুর সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান। লক্ষ্মীচাপ ইনিয়নের পাঁরঘাট পাড়া আলোর বাজারের পাশে আমাদের অফিস ঘর। অলস সময় কাটনো নারীরা এখন স্বপ্ন দেখছেন আকাশ ছোঁয়া।
মুল উদ্যেগতা শংঙ্কর রায় আরও বলেন, আমরা কয়েক বন্ধু মিলে ৪ লাখ টাকা মুলধন নিয়ে এ কুটির শিল্পের ব্যবসা শুরু করি। দুই বছরে আমদের মোট মূলধন ছাড়িয়ে গেছে এখন লক্ষ্য হলো গ্রামাঞ্চলে পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবন মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার লোকের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরা।
এ বিষয়ে কথা হলে নীলফামারী জেলা কর্মকর্তা বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক হোসনেয়ারা খাতুন বলেন, এ সব কাজে যে কোন পরামর্শ ও সহযোগিতা করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত।









