হঠাৎ করেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সেই পথে হাঁটছে আদা-রসুনও। ফলে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে মসলার বাজার। তবে পাইকারি বাজারে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। সেখানে আদা-রসুনের দাম ততটা বাড়েনি। অভিযোগ রয়েছে, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে খুচরা ব্যবসায়ীরা আদা-রসুনের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বুধবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা, তালতলা ও খিলগাঁও মালিবাগ বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। রাজধানীর শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে আদা-রসুনের দাম ততটা বাড়েনি।
জানা যায়, বুধবার (৬ অক্টোবর) শ্যামবাজারে ভারতের আদা কেজিপ্রতি ৪০-৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১১০ টাকা। এই দুই জাতের আদার দাম পাইকারিতে তেমন বাড়েনি। তিনদিন আগের তুলনায় ২-৫ টাকা বেড়েছে।
অপরদিকে পাইকারিতে দেশি রসুন ৩০-৪০ টাকা এবং চায়না রসুন ৮০-১০২ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। তবে এ দুই জাতের রসুনের দাম তিনদিনের ব্যবধানে বাড়েনি।
এদিকে রাজধানীর তিনটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেখানে আদা-রসুন বিক্রি করা হচ্ছে বেশি দামে। এর মধ্যে খুচরায় প্রতিকেজি ভারতের আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়, আর চায়না আদা ১৩০-১৪০ টাকা। যা তিনদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা বেশি।
একইভাবে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা দরে। চায়না রসুন ১২০-১৩০ টাকা। যা একই সময়ের ব্যবধানে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পাইকারি বাজার থেকে খুচরায় দামের এই অসামঞ্জস্যতার বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পরিবহন খরচ, পণ্যের ঘাটতি এবং বাছাই পণ্য বিক্রির কারণে দাম বেশি খুচরায়।
তালতলা বাজারের বিক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারের দাম হিসাব করে আমাদের চলে না। তারা যে মাল বিক্রি করে, সেটা বাছাইয়ের পর মণে ৫-৭ কেজি ঘাটতি হয়। এছাড়া পরিবহন, দোকান খরচ মিলে এর থেকে কম দামে বিক্রি করা যায় না।
ঠিক পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির সময় আদা-রসুনের দাম কেন খুচরায় বাড়ছে- এমন প্রশ্নে খিলগাঁও বাজারের রশিদ মিঞা বলেন, বাজার যখন গরম যায়, সেটা সব পণ্যই যায়। এখন বাজার গরম। যে পারছে ৫-১০ টাকা ধরে বিক্রি করছে।
এদিকে চারদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম উঠেছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায়।
আনন্দবাজার/শহক









