করোনার প্রভাবে দেশের খাদ্য সংকট কাটাতে বোরো মৌসুমের পরে কৃষিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ওই সময়ে জমিতে আউশ ধান, হাইব্রিড ধান, পাট, শাক-সবজি, ডালজাতীয় শস্য ও ফলমূল আবাদের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এছাড়া কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, বাজারজাতকরণ ও বিপণনের দিকেও ব্যাপক গুরুত্ব নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সারাবিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার একটা আভাস দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতির দ্বারা খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা আক্রান্ত হওয়া মানে বাঁচা-মরার আরেক সংকটের মুখোমুখি হওয়া। এ কারণে কৃষির ওপর করোনা পরিস্থিতির প্রভাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করতে হবে এবং তা করতে হবে এখনই। কেননা, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ইতোমধ্যেই করোনা পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ব খাদ্য পরিস্থিতির হালহাকিকত সম্পর্কে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে।
জানা যায়, বোরো ধানের পর এ বছর আউশ ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে জোরোশোরে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিবছর আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩০ লাখ টন । এবার আসন্ন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা হলো ৩৫ লাখ টন। সেজন্য আসন্ন আউশ মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচের রেট ৫০ শতাংশ হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং ৬ হাজার ৫০০ টন হাইব্রিড ও উফশি জাতের বীজ ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
কৃষিতে জোড় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলছেন, এক ইঞ্চি জমি যেন পড়ে না থাকে। যে যেভাবেই পারেন প্রতিটি ইঞ্চি জায়গার সদ্ব্যবহার করবেন। বাড়ি উঠানে, আশপাশে তরিতরকারি, ফল-মূলের গাছ লাগালেও পরিবারের কাজে লাগবে। এ ছাড়া কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কৃষিমন্ত্রীকেও বিশেষভাবে নজরদারি করতে বলেন।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার চরপাড়া গ্রামের কৃষক আকিমুদ্দিন শেখ জানান, বোরো ধান কাটার পরপরই আউশ ধানসহ পাট, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, সবজি ও অন্যান্য ফসল আবাদ করার জন্য স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে তাগাদা দেয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসাররা ফোন করেও কৃষকের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক জানান, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাষযোগ্য প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল ফলানোর প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ৬ হাজার ৫০০ টন হাইব্রিড ও উফশি জাতের বীজ ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। করোনাকালীন সাধারণ ছুটির সময় কৃষি কার্যক্রম সক্রিয় রেখে মাঠে গিয়ে কৃষকের সাথে, কৃষকের পাশে থাকতে বলা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক








