নোয়াখালী এলজিইডির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এসকল সড়ক সংস্কার জরুরি
নোয়াখালী সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকেশৗল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাইজদী-ওটারহাট সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সড়কটি যানবাহন চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে প্রায়ই ছোট-খাট দুর্ঘটনা লেগে আছে। সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি উপজেলার বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তবে শুধু এই সড়কটিই নয়, নোয়াখালী এলজিইডির ৩ হাজার ৫১৯.৫৪ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২ হাজার ১৯২ কিলোমিটার সড়কের অবস্থাই খারাপ। এর মধ্যে ৭০৮ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা একেবারেই বেহাল। এসব সড়কের বেশিরভাগই যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। এ পরিস্থিতিতে জেলার নয়টি উপজেলার সব কয়টির বাসিন্দারাই এলজিইডির সড়ক নিয়ে দারুন ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সম্প্রতি সদর উপজেলার মাইজদী-ওটারহাট সড়কের বছিরার দোকান থেকে কালামিয়ার পোল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির বেশিরভাগ অংশই ভাঙাছোরা। এর মধ্যে সড়কের বছিরার দোকান, আদর্শ স্কুলের মোড়, ডিস লাইন, সেক্রেটারীর বাজার, দক্ষিণ করিমপুর, দেবিপুর, ভেলা নগর এলাকায় রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। পিচ ঢালাই ওঠে গিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটিতে শত শত ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই সব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি যানবাহন চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে।
আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, মাইজদী-ওটারহাট সড়কটি জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে সদর উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন ছাড়াও পাশ্ববর্তী কবিরহাট, সেনবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন পেশার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন।
তিনি জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতি ঘন্টায় শতাধিক সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ছাড়াও পন্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এসব গাড়ি চলাচল করে অত্যন্ত ধীর গতিতে। সড়কের ভাঙা অংশে প্রায়ই ছোট-খাট দুর্ঘটনার ঘটনা শোনা যায়। গত মঙ্গলবার সকালে সিএনজি চালিত অটোরিকশা গর্তে পড়ে উল্টে যায়। এতে পাঁচজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়। এই সড়কে এ ধরণের দুর্ঘটনা এখন নিত্য দিনের ঘটনা বলে জানান তিনি।
সড়কে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশা চালক মোঃ কামাল বলেন, তিনি গত ছয়-সাত বছর ধরে মাইজদী-ওটারহাট সড়কে অটোরিকশা চালান। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে সড়কটির অবস্থা বেহাল। সড়কের দুরাবস্থার কারণে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে ইচ্ছে করে না। প্রতিদিন গাড়িতে কোন না কোন ত্রুটি দেখা দেয়। তাই বাধ্য হয়ে নিতে হয় মেকানিকের কাছে। এতে আয়ের তুলনায় ব্যায় বেড়ে গেছে।
স্কুল শিক্ষিকা নাজমা সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চাকরির খাতিরে তিনি প্রতিদিন দুইবার সিএনজি অটোরিকশাযোগে এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু ভাঙাছোরা সড়কের কারণে সকালে বিদ্যালয়ে গেলে বিকেলে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না। গাড়ির ঝাঁকুনিতে দিন দিন তিনি অসুস্থ থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
ব্যাটারিচালিত মিশুক রিকশা চালক আবদুল জলিল বলেন, মাস খানেক আগে বছিরার দোকান এলাকায় গর্তের মধ্যে যাত্রী নিয়ে তাঁর রিকশা উল্টে যায়। এতে রিকশায় থাকা দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। সেই সঙ্গে তাঁর রিকশার বেশ ক্ষতি হয়। তিনি নিজেও পায়ে বেশ জখম পান।
এলজিইডির নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার নয়টি উপজেলায় সংস্থাটির মোট পাকা সড়কের পরিমান ৩ হাজার ৫১৯ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে খারাপ সড়কের পরিমান ১ হাজার ৪৮৪ কিলোমিটার, আর খুব খারাপ সড়কের পরিমান ৭০৮ কিলোমিটার। সবচেয়ে বেশি খারাপ রাস্তা বেগমগঞ্জ উপজেলায় ১ হাজার ২৩ কিলোমিটার। সূত্র জানায়, জেলায় খারাপ সড়কগুলোর মধ্যে ৩৫৬ দশমিক ৩১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছে।
এলজিইডি, নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকরামুল হক জেলায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পাকা সড়কের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, খারাপ সড়কের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। মাইজদী-ওটারহাট সড়কটি তিনি নিজেই কয়েকদিন আগে পরিদর্শন করে এসেছেন।
ইকরামুল হক জানান, মাইজদী-ওটারহাট সড়কসহ যে সড়কগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ সেগুলো অগ্রাধীকার ভিত্তিতে আগে সংষ্কার করা হবে। আর বাকি সড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে তাঁরা এরই মধ্যে একাধিক প্রকল্প জমা দিয়েছেন।









