- সরকার উৎখাতের আন্দোলন কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিকগুলো আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে চায়। তারা নানা ধরনের আন্দোলন করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের অপরাধটা কী? জনগণের উন্নয়ন করাই কী অপরাধ। এ জন্য সরকারকে নামাতে তারা একাট্টা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ও সরকার বিরোধীরা যে সরকার উৎখাত করতে চায় তাদের উদ্দেশ্যটা আসলে কী, অপরাধটা কী আওয়ামী লীগের? আমাদের কিছু মানুষ বিদেশে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে ব্যস্ত, তারা সরকার উৎখাতে ব্যস্ত।
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বুধবার ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগপ্রধান।
শেখ হাসিনা বলেন, এই সরকারকে হটাতে হবে। কোন সরকার? আওয়ামী লীগ সরকার। এখানে বিএনপি-জামায়াত জোট, তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আমাদের মান্না সাহেব এবং ড. কামাল হোসেনসহ তাদের এক গ্রুপ। তাদের সঙ্গে আবার যুক্ত কমিউনিস্ট পার্টি এবং আমাদের বাম দল, বাসদ-টাসদ কারা কারা- তারা সবাই নাকি এক হয়ে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাবে। আমার প্রশ্ন, অপরাধটা কী আওয়ামী লীগের?’
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হতে যাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। বলেন, ‘আমার প্রশ্ন এটা কী তাদের ভালো লাগেনি? সে জন্য তারা এই সরকারকে হটাতে চায়?’
জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভূমিহীনদের বিনা মূল্যে জমি এবং ঘর করে দেয়া হচ্ছে বলেও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘একটা মানুষ যার কোনো জমি নেই, ঘর নেই, কিছু নেই, একটি ঘর পাওয়ার পর তার জীবন-জীবিকার পর সে খুঁজে পাচ্ছে নিজের পায়ে০ দাঁড়াতে পারছে। এটাই কি আওয়ামী লীগের অপরাধ? এ জন্য কি এই সরকার হটাতে হবে?’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা লুটপাট করে খেয়েছে মানুষ খুন করেছে, তাদের হাতে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে, চোখ হারিয়েছে। তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে জীবন্ত মানুষগুলোকে হত্যা করেছে। যারা সরকার উৎখাতে ব্যস্ত, তারা দেশের মানুষের জন্য কী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন সেটাও জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কতিপয় রাজনৈতিক নেতা দেশের কোনো সংকটপূর্ণ মুহূর্তে কখনোই জনগণের পাশে থাকেন না। জনগণের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তারা অনেক বেশি ব্যস্ত থাকেন সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তুলতে। মি. মান্না, ড. কামাল হোসেন, কমিউনিস্ট পার্টি ও বাম দলগুলো আওয়ামী লীগ সরকারকে উচ্ছেদ করার আন্দোলন গড়ে তুলতে এখন বিএনপি-জামাত জোটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতিহার দিয়েছে এবং নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ‘ওই ইশতিহারে আমরা রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছিলাম। আমাদের বারবার নির্বাচিত করায় আমি দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
নির্বাচনী ইশতিহার অনুযায়ী দেশ তার লক্ষ্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে সময় আমরা আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী করছি, সে সময়েই আমরা আমাদের দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে পেরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি ইস্যুতে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে- যাতে করে দেশ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ইস্যুর পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদনে অধিকতর ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারে। এ ব্যাপারে সরকার দেশের গণমানুষের কল্যাণে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দেশের কৃষি ও কৃষকদের কল্যাণে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি ও কৃষকদের ব্যাপারে অনেক বেশি আন্তরিক। কৃষকরা যেন ন্যায্য মূল্যে তাদের তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম পেতে পারেন, সেজন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ড. এম এ জলিল, মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানু ও হারুন অর রশীদ অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।









