থামকে যায় ব্যবসাবাণিজ্য, দেখা দেয় চরম জনভোগান্তি
বিদ্যুৎ বিপর্যয়
বিদ্যুৎ সরবরাহের জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে গত মঙ্গলবার দেশজুড়েই প্রায় ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎহীন ছিল। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলো ব্ল্যাক আউট হয়ে পড়েছে। তবে রাত ৮টার পরে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও অনেক স্থানে আবার রাত ১২টার পরে বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি ছিল। তথ্যমতে, জাতীয় গ্রিডে এমন বিপর্যয়ের পর এক পর্যায়ে গোটা দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শুধু রাজধানী বা মহানগরগুলোই নয়, জেলায় জেলায় চরম ভোগান্তি দেখা দেয়।
তবে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন লাইনে বিপর্যয়ে সব বেশি প্রভাব পড়েছে দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ নেতৃত্ব দেওয়া পোশাকখাতে। অন্যান্য দিনের মতোই মঙ্গলবার কারখানাগুলো বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা ছিল। তবে দুপুর ২টা থেকে ছুটির আগ পর্যন্ত সময়ই ছিল একেবারেই জেনারেটরনির্ভর। এতে উৎপাদন খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি পোশাক পণ্যের গুণগত মানও নেমে গেছে। এমনটাই দাবি করছেন পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা।
তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নেতারা বলছেন, বিদ্যুতের সমস্যার কারণে পোশাক উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুতে যে খরচ হয় জেনারেটর চালানোতে তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনই হিসাব করা যাচ্ছে না। তবে পণ্যের মান আর উৎপাদনের গতিতেও যে প্রভাব পড়েছে তা একেবারেই দৃশ্যমান।
জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বিদ্যুতের বদলে জেনারেটর দিয়ে কাজ চালাতে হলে পণ্যের কোয়ালিটি, উৎপাদন ও খরচ বেড়ে যায়। গত মঙ্গলবার বিদ্যুতের বিপর্যয়ের মধ্যে প্রতিটি কারখানায় জেনারেটর দিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সূত্রমতে, মাত্রা এক মাসের ব্যবধানে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো দেশে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটলো। এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর একবার গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল। তখন কুষ্টিয়া, যশোরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো প্রায় দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল। দেশে এর আগে এ ধরনের বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালের ৩ মে। সেবার আকস্মিক গ্রিড বিপর্যয়ের পর উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ৩২টি জেলা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।
তবে এবার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে এমন একটি সময়ে যখন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা চলছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় পূজা মন্ডপগুলোয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে হাসপাতাল, টেলিযোগাযোগ, ব্যাংকের লেনদেন ব্যাহত হয়। বিদ্যুতের কারণে অনেক অফিস ও কারখানার কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখতে হয়েছে। জেনারেটরের ডিজেল কিনতে অনেককে পাম্পগুলোয় ভিড় করতে দেখা গেছে।
সড়ক বাতিগুলোও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহরে একপ্রকার ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। বহুতল ভবনগুলোয় এক পর্যায়ে জেনারেটর সেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হয়। টেলিটক বাদে অন্য মোবাইল অপারেটরগুলো তাদের ফেসবুক পাতা ও ক্ষুদে বার্তায় সেবা বিঘ্নের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অনেক এটিএম বুথ থেকেও টাকা তোলা যায়নি।









