করোনার কারণে মন্দার হাত থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি খাদ্য উৎপাদন ও মজুতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান ।
আজ সোমবার গণভবনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিভাগের চার জেলা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন করোনা মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়ার জন্যই এখনো পরিস্থিতি কিছুটা ভালো রয়েছে।চলতি বোরো মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় বেশি চাল, ধান, আতপ ও গম সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রায় ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য সংগ্রহ করবে সরকার জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু ধান সংগ্রহ করার ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়ে দিয়েছি। সাধারণ বোরোতে আগে যা আমরা নিতাম, তার থেকে অনেক বেশি আমরা নিচ্ছি। এখন প্রায় আমরা ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন আতপ এবং ৮০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ সর্বমোট ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য আমরা সংগ্রহ করব।
এটা সরকার কিনে রাখবে। তাতে আমাদের আর ভবিষ্যতে কোনো অভাব হবে না। আমরা মানুষকে খাবার সহযোগিতা দিতে পারব। আমাদের খাদ্যের কোনো অভাব হবে না। তাছাড়া আমাদের এখন ধান উঠছে। ধান কাটাও শুরু হয়ে গেছে। আগামীতেও ফসল উঠবে। সেই সঙ্গে তরিতরকারি ফলমূল, যে যা পারেন উৎপাদন করবেন।
যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে, তা শুধু এই বছরের জন্য না। আগামী তিন বছর দেশের অর্থনীতির চাকা যাতে সচল থাকে সেটা মাথায় রেখে এ প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। কোনো বাজারে যেন কোনো জিনিসের অভাব না হয়। হাটও বসছে। আমরা বলে দিয়েছি, খোলা বড় জায়গায় যথাযথভাবে দূরত্ব রেখে হাট-বাজার বসবে। ক্রয়-বিক্রয় হবে। যাতে মানুষের জীবনটা একেবারে স্থবির না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা এই ব্যবস্থা নিয়েছি।
তৈরি পোশাক কারখানা সীমিত পরিসরে চালানো মালিকদের কর্মীদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার তাগিদ দেন সরকার প্রধান। কড়া সমালোচনা করেন, অপরিকল্পিতভাবে সাধারণ ছুটির মধ্যেও শ্রমিকদের ঢাকায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্তের।
করোনা পরিস্থিতিকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সচেতনতা আর সাহস বজায় রাখতে হবে দেশের মানুষকে।









