- বিচার না পেলে আত্মহত্যা
কয়েকদফা ধর্ষণের শিকার হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন বগুড়ার এক স্কুলছাত্রী। চিঠির মূল কপি ডাকযোগে (পোস্ট অফিস) পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তি চারমাস ধরে কারাগারে থাকলেও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এ চিঠি লিখেছেন স্কুলছাত্রী।
চিঠির প্রেরক ধুনট পৌর এলাকার প্রভাষক দম্পতির মেয়ে এসএসসি পরিক্ষার্থী। তাদেরই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন প্রভাষক মুরাদুজ্জামান মকুল (৪৮)। এ সুযোগে গত ৩ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ছাত্রীটিকে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন। সেই ওই ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারন করেন। এরপর ধর্ষণ মামলায় মুরাদুজ্জামান মকুল প্রায় চার মাস ধরে বগুড়া জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন।
গতকাল শনিবার ওই স্কুলছাত্রীর নিজের হাতে লেখা ১০ লাইনের একটি চিঠির ফটোকপি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পৌঁছে। ওই চিঠির মূলকপি গত ৩ সেপ্টেম্বর ডাকযোগে পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর।
প্রধানমন্ত্রীকে মা সম্বোধন করে লেখা চিঠিতে বাবার বয়সী ওই ধর্ষককে পাক হায়নার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। গত রমজান মাসে ধর্ষণের সময়ের যন্ত্রণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। পা ধরেও ধর্ষকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি জানিয়ে ধর্ষককে নরপশুর সঙ্গে তুলনা করে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন মেয়েটি। বিচার না পেলে আত্মহত্যা করবেন বলেও উল্লেখ করেছেন চিঠিতে।
মুরাদুজ্জামান মকুল উপজেলার শৈলমারি গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে এবং জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক। ধর্ষণের ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদি হয়ে ১২ মে মুরাদুজ্জামান মকুলে বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ ওই দিনই ধর্ষণের ভিডিও ধারণকৃত দু’টি মোবাইল ফোনসহ মুরাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এদিকে ডাক্তারি পরীক্ষায় মেয়েটিকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
উল্লেখ্য, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলাটি প্রথমে ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা তদন্ত করেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করে বাদিপক্ষ। ফলে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। ওই সময় একই অভিযোগে ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে ধুনট থানা থেকে পাবনা জেলায় বদলি করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









