আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর সতর্কতা গ্রহণ করছে সরকার। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাসহ মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তাঁরা ও অবৈধ মজুত রোধে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানিয়েছে, রমজানে চিনি, ডাল, ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, খেজুরসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের সরবরাহ, চাহিদা ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না সরকার। এ কারণে আগে থেকেই চাহিদা ও মজুতের পরিমাণ বিবেচনায় নিয়ে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রোজাকে সামনে রেখে ৩০ হাজার টন সয়াবিন তেল ও ২৫ হাজার টন চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব খাদ্যপণ্য আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে চিনি ও সয়াবিন তেল সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এসব পণ্য টেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর মাধ্যমে খোলা বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পেঁয়াজ বিক্রির চলমান কার্যক্রম চলবে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানিয়েছে, বাজারে সব ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে ১৯টি মনিটরিং টিম সাজানো হয়েছে। এই মনিটরিং টিম রোজার পুরো সময় বাজারে থাকবে। এর সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বেও বাজার মনিটরিং চলবে। একইসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন অপর সংস্থা-বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের উদ্যোগেও মনিটরিং চলবে।
রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, কোনোভাবেই রোজার সময় অনৈতিক কিছু হতে দেওয়া যাবে না। কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং চলবে। কোথাও অসামঞ্জস্য কিছু দেখলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শবেবরাতের পর থেকেই বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও রোজা শুরুর আগে থেকেই টিসিবির মাধ্যমে চিনি, ছোলা, তেল, পেঁয়াজ ও খেজুর স্বল্পমূল্যে ট্রাকে করে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করা হবে।
আনন্দবাজার/রনি








