- চাষিদের স্বপ্ন রঙিন
খুলনার রূপসায় অফ সিজনে গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত বছরে এ তরমুজ চাষে ব্যাপক লাভ হওয়ায় সকল শ্রেণির কৃষকদের মধ্যে তরমুজ চাষের আগ্রহ বেড়েছে। তরমুজ মৌসুমি ফল। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়। সেই তরমুজ এখন আর মৌসুমী ফল নয়। সারা বছর তরমুজ এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। অফ সিজনে বাজারে তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকায় কৃষক অধিক মূল্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে।
রূপসা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রীষ্মকালে সাধারণত অধিকাংশ কৃষক শসা, লাউ, ধুন্দল, উচ্ছে, করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষাবাদ করতো। ২০২০ সালে করোনাকালে কৃষি অফিস প্রথমবারের মতো কৃষকের মাঝে বিনামূল্য বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করে। ফলে সে বছরই প্রথমবারের মতো অফসিজন তরমুজ চাষে সফলতা আসে এবং মূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকরা তরমুজ চাষে উৎসাহী হন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর অফসিজন তরমুজের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক কৃষক বাহারি রংয়ের তরমুজের আবাদ করে হয়েছেন স্বাবলম্বী।
জাবুসা গ্রামের কৃষক হাফিজ শেখ বলেন, কৃষি অফিসের অনুপ্রেরণায় ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে এ বছরই প্রথম তরমুজের আবাদ করেন। প্রকল্প হতে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা পেয়েছেন। তার তরমুজ ক্ষেতের মাচায় ঝুলছে বাহারী রংয়ের তরমুজ। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৫০ কেজি তরমুজ বিক্রি করেছেন। তার ক্ষেতে যে পরিমাণ তরমুজ রয়েছে তাতে তিনি প্রায় ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদি।
নতুনদিয়া গ্রামের কৃষক লিটন বলেন, গত বছর ভাল ফলন ও লাভবান হওয়ায় এবছরও অফসিজনে তরমুজের আবাদ করেছি। আশাকরি বাম্পার ফলন পাবো।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাদ্রী বিশ্বাস বলেন, আমরা নিয়মিত তরমুজের ক্ষেত পরিদর্শন করে পরামর্শ প্রদান করি। আশাকরি কৃষক ভাইয়েরা খুবই লাভবান হবেন।
উপজেলার সর্বত্রই ঘেরের মাচায় ঝুলছে বাহারী রংয়ের তরমুজ। প্রতিটি তরমুজের ওজন জাত ভেদে দুই থেকে চার কেজি। বীজ বপনের ৪০ দিনের মাথায় ফুল থেকে ফল আসা শুরু হয়। আর ফল ধরার ৩০-৩৫ দিন হলে ফল পরিপক্ক হয়। এখানে তৃপ্তি, ইয়েলো ড্রাগন, রংধনু, রঙ্গিলা, ব্লাক বেবি, সুইট ড্রাগন পাকিজা জাতের তরমুজ বেশি চাষ হয়। তিনি আরও বলেন, এ তরমুজ এখন বাজারে উঠতে শুরু করেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, এটি নিরাপদ ও সুস্বাদু তরমুজ। প্রথমবার অনেক কৃষক আগ্রহ দেখান নি। লাভ হওয়ায় এবার আবাদ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ বিঘা। অন্যান্য সবজির তুলনায় লাভ বেশি পাওয়ায় কৃষকরা অফসিজনের তরমুজ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষকদের স্বাববলম্বী করার স্বপ্ন দেখাচ্ছে অফসিজনের বাহারি রংয়ের তরমুজ।









