- গাজরে আগুন, বাড়তে পারো আরও
- জেলা থেকে রাজধানী এলেই বাড়ে দাপট
- ব্যবসায়ীদের যুক্তি সরবরাহ কমে বাড়ে দাম
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে সেটাই এখন স্বাভাবিক। বলা যায় অলিখিত নিয়ম। এবারও যে ব্যতিক্রম হবে না তা সবারই জানা। তবে কিছু পণ্যের দাম যে আকাশে উড়ার পর আর মাটিতে নামবে না এমন ভাবনা আগে তেমন হয়নি। যেমনটা হয়েছে এবারের বেগুনের বেলায়। রমজানের শুরুতেই চড়া দামের তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে বেগুন। সেই বেগুনের দামে হেরফের হওয়ার আলামত মিলছে না। রমজানের শুরুতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে নিত্যপণ্যটি। রমজানের ২০ দিনে এসেও কমেনি বরং বাড়ার পাঁয়তারা করছে প্রতিনিয়ত।
বেগুনের সঙ্গে দামের জোট বেঁধেছিল শিম। সেই সবজিও এখন বেগুনের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটছে। বাজারে নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে থাকার চেষ্টা করছে। মাঝখানে অবশ্য হঠাৎই দামের লাগাম ঢিলে হয়ে পড়ে। তবে সেটা ছিল সাময়িক। সেই ফাঁকে আবার চড়ে যায় রঙিন চোখ ধাঁধানো সবজি গাজর। গেল সপ্তায় হঠাৎ করেই দাম এত বেড়ে যায় যে তিনগুণ লাফিয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীরা যুক্তি দিচ্ছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। সামনে আরো দাম বেড়ে যাবে বলে ভয় দেখাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা। তবে রাজধানীর ব্যবসায়ীদের যুক্তির সঙ্গে কোনোভাবেই মেলেনা মফস্বলের ব্যাখ্যা। কৃষি পর্যায়ে যে পণ্য ১০ টাকা কেজি রাজধানীতে এলেই তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
সরকারের বিভিন্ন কঠোর তদারকিও রোজার শুরুতে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। এদিকে সবজির বাজার আগের সপ্তাহ থেকে গেল সপ্তাহের চড়া দামের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ৪০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। অন্যদিকে মাছের বাজার পূর্বের মতোই রয়েছে। মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত।
রোজার প্রভাবে বেগুন-শিম প্রতি কেজিতে বিক্রি হয়েছে শত টাকা। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অন্য সব সবজি। সেই সময় অর্ধশত টাকার নিচে মিলছে না কোনো ভালো সবজি। রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গাজর বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা দরে। স্থান ভেদে প্রতি কেজি দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যা আগের সপ্তাহে ছিল ২৫ টাকা।
গাজরের চড়া দাম প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আশরাফ বলেন, গাজরের মৌসুম না। কিন্তু বাজারে চাহিদা রয়েছে। চাহিদা থাকায় গাজরের দাম চড়া। সামনে গাজর একশো টাকা প্রতি কেজি কিনে খেতে হতে পারে। তবে, মৌসুম বাজারে এই সবজির দাম কমে যাবে।
আরেক ব্যবসায়ী নজরুল বলেন, চাহিদার তুলনায় কম গাজর বাজারে রয়েছে । যেহেতু বাজারে সরবরাহ কম, সেহেতু দাম বেশি এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাজারে গাজর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। যেখানে ১০ আগেও কেজি ছিল ২৫ টাকা।
গাজর প্রসঙ্গে যাত্রাবাড়ী বাজার করতে আসা ক্রেতা রহমত আলী বলেন, গাজরের দাম অনেক বেশি। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। বাজারের সব দোকানে এটি পাওয়া যায়না। বেগুন, শিম ও শসার এর দাম কমার প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী দিলীপ বলেন, রোজা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বেগুন-শসার চাহিদা কমছে। একেই সঙ্গে কমেছে শিমের দামও। তরে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে গাজরের দাম।
এদিকে শসা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা ও ঢেঁড়স ৬০ টাকা দরে। লাউ ৬০ (আকার ভেদে কম বেশি হতে পারে) টাকা। সজনে ডাটা ৮০ টাকা, পাকা টমেটো ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। করলার কেজি ৭০ টাকা। অপরদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামে পরিবর্তন আসেনি। রুইয়ের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা (চাষ ও দেশি)। ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙ্গাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। অপরিবর্তিত রয়েছে মুরগি ও গরুর মাংসের দাম। ব্যবসায়ীরা আগের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। গরুর মাংস গত সপ্তাহের মতো ৬৮০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।









