করোনায় চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের দাম দফায় দফায় বাড়লেও কমেছে সবজির দাম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারগুলোতে সবজিই শুধু রয়েছে ক্রেতাতের নাগালে। বাকি সব পণ্য রয়েছে ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজার ভেদে টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০-২৫ টাকা কেজি। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০-৩০ টাকা।
কারওয়ান বাজারে ভালো মানের টমেটোর কেজি ১০ টাকা বিক্রি করা আলম বলেন, এখন বাজারে টমেটোর সরবরাহ অনেক। খেতের টমেটো পেকে যাচ্ছে। আর টমেটো পেকে গেলে তা খেতে রাখার উপায় নেই। যে কারণে চাষিরা দাম না পেলেও টমেটো বাজারে নিয়ে আসছেন। শুধু টমেটো না, এখন সব ধরনের সবজিই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
কারওয়ান বাজারে যে টমেটোর কেজি ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে সেই মানের টমেটো খিলগাঁও বাজারে ২৫ টাকা। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী
এদিকে টমেটোর মতোই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। তবে সজনের ডাটার দাম এখনো বেশ চড়া। গত কয়েকদিনের মতো সজনের ডাটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। এছাড়া করলা ২০-৪০, বরবটি ৪০-৫০, শসা ২০-৩০, পেঁপে ৩০-৪০, শিম ৩০-৪০, গাজর ২০-৩০, বেগুন ২০-৪০, পটল ৪০-৫০, ঝিঙা ৪০-৫০, চিচিংগা ২০-৩০, ঢেঁড়শ ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকার মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থাকলেও রাজধানীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি আসছে। তবে ঢাকায় বসবাসকরীদের একটি বড় অংশ গ্রামে অবস্থান করছেন। ফলে সবজির চাহিদা তুলনামূলক কম। এ কারণে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে সবজি।সবজির দামে স্বস্তি দেখা দিলেও চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজের দাম বেশ ভোগাচ্ছে ক্রেতাদের। বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাল চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৬৮ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫-৬০ টাকা কেজি। আর করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার আগে ছিল ৫২-৫৬ টাকা কেজি। অর্থাৎ চিকন চালের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আট টাকা এবং মাসের ব্যবধানে ১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা এখন প্রতি কেজি লুজ সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন ৯৫-১০০ টাকা। যা আগেও ছিল ৮০-৮৫ টাকা। ভালো মানের পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকা, যা আগে ছিল ৭৫ টাকার মধ্যে। সাধারণ পাম অয়েল এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা, যা আগে ছিল ৭০ টাকা। আর এক লিটার বোতলের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকা, যা আগে ছিল ১০০-১১০ টাকা।
বড় দানার মশুরের ডাল খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন ৭৫-৮৫ টাকা, যা আগে ছিল ৬০-৭০ টাকা। আর ছোট দানার মশুরের ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা, যা আগে ছিল ১০০-১০৫ টাকার মধ্যে।
কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কেনা এক ক্রেতা বলেন, সবজি তুলনামূলক কম দামেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজেই তো সর্বনাশ করে দিচ্ছে। দিনের পর এসব পণ্যের দাম বাড়ছে। এদিকে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক, অন্যদিকে সবকিছুর বাড়তি দাম। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ।
আনন্দবাজার/রনি








