চলতি ২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে বিশ্বজুড়ে মোট ১২ কোটি ৩০ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা উৎপাদন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, যা আগের বিপণনবর্ষের তুলনায় ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই পণ্যটির অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানে এবছর উৎপাদন কমতে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাইবারটুফ্যাশনডটকম সূত্রে জানা গেছে।
পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন বাড়াতে অন্যতম প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে ভারত। আবাদি জমি বৃদ্ধি ও উচ্চ ফলনের জেরে ২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে চীনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে ভারত। এ সময় দেশটিতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৯৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হতে পারে, যা আগের বিপণনবর্ষের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি এবং গত পাঁচ বছরে দেশটিতে পণ্যটির সর্বোচ্চ উৎপাদন।
অন্যদিকে ২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে অস্ট্রেলিয়ার তুলা উৎপাদন খাতে নেমেছে ধস। দেশটিতে গত কয়েক বছর ধরেই টানা খরা চলছে, যা ২০১৯ সালে এসে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। একই অবস্থা বিদ্যমান করছে পাকিস্তানের তুলা খাতেও। এদিকে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ থেকে ছিটকে চলতি বিপণনবর্ষে পণ্যটি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে নেমে যেতে পারে চীন। এ সময় দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন ২০১৮-১৯ বিপণনবর্ষের তুলনায় সামান্য কমে ২ কোটি ৭৩ লাখ বেলে নেমে আসতে পারে। বৈরি আবহাওয়াও দেশটির তুলা উৎপাদন হ্রাসের জন্য দায়ী।
তবে হেক্টরপ্রতি ফলনে ভারতের তুলনায় চীন এখনো অনেকটা এগিয়ে। চীনে ২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ হাজার ৭২০ কেজি করে তুলা উৎপাদন হতে পারে। যেখানে ভারতে হেক্টরপ্রতি পণ্যটির উৎপাদন হতে পারে গড়ে ৪৯৪ কেজি। বিলম্বিত বৃষ্টিপাত ও পিংক বলওয়ার্ম পোকার উপদ্রব্যের মধ্যেও ভারতে তুলার আবাদি জমি আগের বিপণনবর্ষের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩০ লাখ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ, যা দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বাড়িয়ে তোলার প্রধাণ কারণ।
আনন্দবাজার/তা.তা









