- লেনদেন ডিএসইতে ২৮শ কোটি টাকা, সিএসইতে ৪৯ কোটি টাকা
- লেনদেন সেরা ডিএসইতে বেক্সিমকো, সিএসইতে ওরিয়ন ফার্মার
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল মঙ্গলবার সব ধরনের সূচক পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেন পরিমান ডিএসইর বাড়লেও সিএসইর কমেছে। ডিএসইর লেনদেন বেড়ে ২৮শ কোটি টাকায় ঘরে অবস্থান করেছে। ডিএসইর এই লেনদেন গত ২৫৪ কার্যদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তবে ডিএসইর বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। অপরিবর্তিত সিএসইর বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর।
সরকারের নতুন সময় সূচির প্রথম কার্যদিবস গত ২৪ আগস্ট (বুধবার) পতন হয়েছিল। যা আগের টানা ছয় কার্যদিবস উত্থানের পর এই মন্দা। পতন পরের গত দুই কার্যদিবস (বৃহস্পতিবার ও রবিবার) ধরে উত্থানে রয়েছিল পুঁজিবাজার। ওই সময় লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিলো। পরেরদিন সোমবার লেনদেনে ভাটা পড়ে। সেখান থেকে পরের দুই কার্যদিবস লেনদেন কিছুটা বাড়ে। এর পরেরদিন লেনদেন কমে। পরের কার্যদিবস লেনদেন বেড়ে ২৩শ কোটি টাকায় ওঠেছিল। কমে ফের লেনদেন ১৩শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছিল। গত বুধবার লেনদেন বেড়ে ২২শ কোটি টাকার ঘরে ছিল। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন ১৯শ কোটিতে নামে। লেনদেন কমে গত ১১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ১৬শ কোটি টাকা, সোমবার ১৩শ কোটি টাকা, মঙ্গলবার ১৪শ কোটি টাকা, বুধবার ১৩শ কোটি টাকা এবং বৃহস্পতিবার ১২শ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছিল। সেখান থেকে লেনদেন বেড়ে গত রবিবার ১৮শ কোটি টাকা এবং সোমবার ১৯শ কোটি টাকায় চলে এসেছিলো। পরেরদিন গতকাল মঙ্গলবার ২৮শ কোটি টাকায় চলে এসেছে। এদিন ডিএসইর সব ধরনের সূচকের উত্থান হয়েছে। এদিন ক্রয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল।
গতকাল ডিএসইতে ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ডিএসইতে এদিনের লেনদেন ১ বছর ১২ দিন বা ২৫৪ কার্যদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গতকালের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। ওই দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকার। আগের কার্যদিবস সোমবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯৬ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে। এছাড়া এদিন ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪০১ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট এবং ১ হাজার ৪৪৮ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৩টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭২টি এবং কমেছে ১৫৬টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ১৪৫টির। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন বেক্সিমকো ৩৪২ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ওরিয়ন ফার্মা ৩২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ১৫৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, একমি ল্যাব ৯০ কোটি ৭০ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৭৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, ইস্টার্ন হাউজিং ৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, শাহজিবাজার পাওয়ার ৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকা, শাইনপুকুর ৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৫৪ কোটি ৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
অপরদিকে সিএসইতে গতকাল মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা শেয়ার। আগের কার্যদিবস সোমবার ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮২টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৭৯টি, কমেছে ৯৭টি এবং পরিবর্তন হয়নি ১০৬টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫৬ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৪৫০ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৪ দশমিক ৭০ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৪৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৩৫ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৫ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪২৮ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৫৩৮ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট, ১১ হাজার ৬৫৯ দশমিক ৮১ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ২৬৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।
এদিন সিএসইতে ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ওরিয়ন ফার্মা ৬ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেক্সিমকো ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, একমি ল্যাব ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, ইবনে সিনা ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, বসুন্ধরা পেপার ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং শাইনপুকুর সিরামিক ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।









