প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দুনিয়াজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৩৮ হাজার ছুঁই ছুঁই আর আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। আজকেও মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে স্পেনে। ২৪ ঘণ্টায় স্পেনে মারা গেছেন ৯১৩ জন আর ইতালিতে মারা গেছে ৮১২ জন। এই নিয়ে দু’দেশে মৃত্যুর সংখ্যা যথাক্রমে ৭৭১৬ এবং ১১৫৯১ জন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগী সংখ্যা। এখানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। এই দেশে গেল ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে ৫৬৫ জনের আর আক্রান্ত হয়েছে ১৯৯৮৮ জন। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩১৪৮।
পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসনকে। এরমধ্যে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র সতর্ক করেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে জরুরি চিকিৎসা সকল প্রকার সরঞ্জাম। এ পরিস্থিতিতে দেশটির করোনা প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্সের শীর্ষ কর্তা অ্যান্থনি ফসি সতর্ক করেছেন, করোনায় প্রাণহানি ২ লাখে পৌঁছাতে পারে। ফসির এ সতর্ক বার্তার পর, ট্রাম্প তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সবাইকে ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
করোনার সর্বশেষ পরিসংখ্যানঃ https://www.worldometers.info/coronavirus/
এদিকে আক্রান্তের এক সপ্তাহ পর সোমবার সুস্থ হয়ে সেল্ফ আইসোলেশন থেকে বের হয়েছেন ব্রিটিশ প্রিন্স চার্লস। অন্যদিকে উপদেষ্টা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ১৪ দিনের সেল্ফ আইসোলেশনে গেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
করোনায় নাজেহাল ইতালি, লকডাউন করেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আস্তে পারছেনা। এই অবস্থায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তে চার বিলিয়নের বেশি আর্থিক প্রাণোদনা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে, আগামী দুই সপ্তাহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত ছাড়া বাকি সবাইকে বাধ্যতামূলক ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
অবনতির দিকে যাচ্ছে ফ্রান্সের ও জার্মানির করোনা পরিস্থিতিও। ফ্রান্সে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে ৪১৮ জনের আর আক্রান্ত হয়েছে ৪৩৮৬ জন অন্যদিকে জার্মানিতে এই সংখ্যা ১০৪ ও ৬৪৫।
আগামী দুই সপ্তাহ খুব কঠিন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড ফিলিপ। তিনি বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে, আগামী দুই সপ্তাহ আমরা আরও কঠিন সময় পার করতে যাচ্ছি। এই সঙ্কট কাটাতে আমাদের আরও ইনটেনসিভ কেয়ার ও ভেন্টিলেটর প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।’
ইরান ও যুক্তরাজ্য সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই দুই দেশে যথাক্রমে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে ১১৭ আর ১৮০ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৭৫৭ ও ১৪০৮ জন।
আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আজ থেকে মস্কোতে সবার জন্য বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিন কার্যকর করছে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ।
ওদিকে, এ সংক্রমণরোধে জেদ্দায় লকডাউন ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার। শহরটিতে কারফিউয়ের সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে বিকেল ৩টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
আর এই ভাইরাসে বলিভিয়া, উরুগুয়ে ও সিরিয়ায় ঘটেছে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। তবে হু হু করে আক্রান্ত বাড়ছে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলে।
এদিকে, দুই মাস বন্ধ থাকার পর করোনার উৎসস্থল চীনের উহানে মেট্রো সার্ভিস ও সীমান্ত খুলে দেয়া হয়েছে। লকডাউন আংশিক তুলে নেয়ার পর, উহানের রেলস্টেশনে ছিলো যাত্রীদের ভিড়। তবে নতুন করে চীনে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩১ জন।
আনন্দবাজার/শহক








