পানিবন্দী মানুষ: দুর্ভোগ কমাতে চাল বরাদ্দ : বাড়ছে পানি : আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা
এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে পড়েছে সিলেটের নিম্নাঞ্চল। সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি বেড়েই চলেছে। প্রধান দুই নদী- সুরমা ও কুশিয়ারা বিপজ্জনক অবস্থানে (ডেঞ্জার জোন) রয়েছে। এ দুটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তলিয়ে গেছে সিলেটের নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমিও। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানিবন্দী মানুষের জন্য চাল বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গতকাল সকালে নদীগুলোর পানিসীমার তথ্য জানিয়ে বলেছে, গতকাল সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১.২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। এ নদীর পানি সিলেট পয়েন্টে শনিবারের চেয়ে গতকাল বেড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট পয়েন্টে পানি ছিল ১০.৫১ সেন্টিমিটার। গতকাল সকালে পানিসীমা দাঁড়ায় ১০.৬২ সেন্টিমিটার।
অপরদিকে, সিলেটের কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশিদ পয়েন্টে গতকাল সকালে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিলো। এ নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে বেড়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় এ পয়েন্টে পানিসীমা ছিল ৬.৭০ সেন্টিমিটার, আর গতকাল সকাল ৯টায় পানিসীমা হয় ৭.৭৩ সেন্টিমিটার। পানি বেড়েছে কুশিয়ারার ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টেও। এখানে শনিবার সন্ধ্যায় পানিসীমা ছিল ৮.০৯ সেন্টিমিটার, গতকাল সকালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৮.৫০ সেন্টিমিটারে। এছাড়াও গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানি গতকাল বিপৎসীমার ০.৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
জানা গেছে, পহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে সিলেটের সদর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, বিশ^নাথ ও বালাগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এই উপজেলাগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট এবং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এ উপজেলায় ফসলি জমিও তলিয়ে গেছে।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘জৈন্তাপুরে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। প্রয়োজনে পানিবন্দি মানুষের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে এবং আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।’ একই অবস্থা অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির সঙ্গে যোগ হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা ঢল। ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও আসাম প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে, টানা বৃষ্টিতে সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায়ও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গলি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। নগরের লামাবাজার, শিবগঞ্জ, সেনপাড়া, সোনাপাড়া, শাহজালাল উপশহর, মেন্দিবাগ, তোপখানা, কাজলশাহ, লালাদীঘির পাড়, আম্বরখানাসহ কয়েকটি এলাকা গতকাল দুুপুর পর্যন্ত ছিলো জলমগ্ন।
তবে সিলেট সিটি করেপারেশনের (সিসিক) প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, সিলেটে এখন আর আগের মতো জলাবদ্ধতা হয় না। ভারী বৃষ্টি হলে কিছু জায়গায় পানি জমে। বৃষ্টির পরই তা আবার নেমে যায়।
সিলেটে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা জানিয়ে সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী দৈনিক আনন্দাবাজারকে জানান, সিলেটে ১৮ মে পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলা বৃষ্টি বেশি হবে।
সিলেটে এ পরিস্থিতিতে পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহানো পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। সিলেটের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান জানান, সিলেটের পানিবন্দী মানুষের জন্য ৭৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলায় এসব চাল বিতরণ করা হবে।
এসব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।









