১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসেছে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব
বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন বাংলাদেশকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন-২০২১। গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন। সাড়ে পাঁচ বছর পর রাজধানীর ‘রেডিসন ব্লু’ হোটেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমরা জাতীয় শিল্পনীতিসহ খাতওয়ারি শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করেছি। শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রণয়ন করেছি। প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছি। রফতানিমুখী শিল্পের প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশন করছি।
অর্থনৈতিক কূটনীতির গুরুত্বের বিষয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছি। দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি, মুক্তবাণিজ্য চুক্তি এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে কাজ করছি। ভুটানের সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষর করেছি। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৮টি দেশে একতরফা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে। ৩৬টি দেশের সঙ্গে দ্বৈত- করারোপন পরিহার চুক্তি বলবৎ আছে। আমরা বিভিন্ন বাণিজ্য জোটের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। আমরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অবকাঠামোসহ সকল নীতিগত সহায়তা প্রদানে অঙ্গিকারাবদ্ধ।
দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ‘বাংলাদেশ সরকারি– বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫’ প্রণয়ন করেছি এবং সরকারি - বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছি। বর্তমানে ৭৯টি পিপিপি প্রকল্পে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬ প্রণয়ন করেছি এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০১৯ সাল থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ৩৫টি সংস্থার ১৫৪টি বিনিয়োগ সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ৩৯টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছি। মীরসরাই, সোনাগাজী ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরী’ গড়ে তুলছি। আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।
এদিকে, গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন বাংলাদেশকে তুলে ধরাই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন মুখ এখনও বিশ্বের অনেকের কাছেই অজানা এবং বিনিয়োগ প্রচার কর্মসূচি তাদের অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করছে।
বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রায় ২ হাজার ৫৭৪ জন বিনিয়োগ সামিটে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৬৫ জনের বেশি বিদেশি রয়েছেন। তারা তাদের দেশ বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
‘বাংলাদেশ : ডিসকভার লিমিটলেস অপারচুনিটিজ’ শীর্ষক একটি ট্যাগলাইনসহ সম্মেলনে ১৪টি পৃথক সেশন থাকছে। যার মধ্যে ১১টি নীল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধ, পরিবহন এবং লজিস্টিকস, পুঁজিবাজার, শক্তি এবং জ্বালানি, আর্থিক পরিষেবা, কৃষি ব্যবসা, চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য, পোশাক, বৈদ্যুতিক এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে সম্পৃক্ত।
বলা হয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল যে সুযোগগুলি তৈরি করছে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির দুর্দান্ত উত্থানের গল্পের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করবে।
আনন্দবাজার/শহক









