কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রতনপুর বাজার থেকে পশ্চিম দিকে প্রবেশ করেছে একটি সুরু সড়ক। আঁকাবাঁকা সড়কে দুই কিলোমিটারের পরেই বড় ধর্মপুর। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে দুটি মাঝারি উচ্চতার পাহাড়।
পাহাড়ের কাছাকাছি যেতেই উড়াল দেয় একঝাঁক পাখি। পাহাড়ের উপরে ও ঢালুতে চা গাছের চারা লাগানো হয়েছে। পৌষের কনকনে শীতেও স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে সবুজ চা গাছ। নতুন কুড়িগুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। পাহাড়ের ছোট ছোট টিলাগুলোতে সবুজ পাতা মেলেছে চা গাছগুলো।
আগামী বছর দুয়েকের মধ্যে ডালপালা মেলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে গাছগুলো। গাছের ডাল থেকে কচি পাতা সংগ্রহ করা হবে। সেই পাতা থেকে হবে চা। চায়ের সু-ঘ্রাণ মন মাতাবে আশপাশের সবার। এমন স্বপ্ন নিয়েই কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে চা বাগান গড়ে তুলেছেন তারিকুল ইসলাম মজুমদার নামের একজন উদ্যোক্তা।
পাহাড়ের উপরে বসানো হয়েছে পানির ট্যাংক। সেখান থেকে পাইপ দিয়ে চা বাগানে পানি সরবরাহ করা হয়। চা বাগানে শেড ট্রি হিসেবে লাগানো হয়েছে কড়ই গাছ। এ গাছ বড় হতে সময় লাগবে, তাই এলোমেন্ডা নামের ছোট গাছ লাগানো হয়েছে। যা চা গাছকে সাময়িক ছায়া দিচ্ছে। কয়েকজন নারী পাহাড় পরিষ্কার করছেন। শনিবার ছুটির দিনে কিছু দর্শনার্থীও এসেছেন চা বাগান দেখতে। সবার চোখে বিস্ময়।
মূলত শখের বসেই লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায় প্রায় এক একর জমিতে ছয় হাজার চা গাছ রোপণ করেছেন উদ্যোক্তা তারিকুল ইসলাম মজুমদার। তার ইচ্ছে- এখানে চা পাতা প্রক্রিয়াকরণের কারখানাও করবেন। লালমাই পাহাড়ে উৎপাদিত চা দেশ ও দেশের বাইরে বিখ্যাত হবে। সে লক্ষে চলতি বছরে মার্চ মাসে ৩ হাজার এবং জুন জুলাই মাসে আরো ৩ হাজার চা গাছ রোপন করেন। অদূর ভবিষ্যতে আরো জমিতে অন্তত ১০ হাজার চা গাছ রোপন করার ইচ্ছে আছে তার।
আফসার উদ্দিন নামে একজন দর্শনার্থী বলেন, লালমাই পাহাড়ের মাটিতে চা চাষ শুরু হয়েছে শুনে দেখতে আসলাম। লালমাই পাহাড়ের মাটিতে কমলা চাষ, মাল্টা চাষ আগেই শুরু হয়েছে। কিন্তু চা চাষ এই প্রথম। চা চাষে সফলতা পেলে পাহাড়ের জমি আর পরিত্যক্ত থাকবে না।
তারিকুল ইসলাম মজুমদার বলেন, শখের বসে চা বাগান তৈরি করেছি। বিটি ২ জাতের চা গাছ রোপন করেছি। এ জাতের চায়ের রং ও স্বাদ খুবই চমৎকার। বাজারে বিটি ২ জাতের চাহিদাও ব্যাপক। শ্রীমঙ্গলে আমার এক উপজাতি বন্ধু আছে। তার নাম জিডি সান। সে খাসিয়াদের রাজা। চা বাগান করতে সেই মূলত আমাকে সহযোগিতা করেছে। জিডি সান দলবল নিয়ে কুমিল্লায় আসেন। জিডি সান আমাকে জানায়, লালমাই পাহাড়ের মাটি চা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তারপর আমি চা বাগান করতে আগ্রহী হই। এর আগে শ্রীমঙ্গলে চায়ের বাগান করতে গিয়ে আমি সফল হইনি। তবে লালমাই পাহাড়ে চা বাগান শুরু করেছি। নিজের জেলায় নিজের বাড়ির কাছে। আশা করি এবার আর ব্যর্থ হব না।
চা বাগান নিয়ে আর কি পরিকল্পনা আছে এমন প্রশ্নে তারিকুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এখানে আমার দেখাদেখি অন্যরা উদ্যোগী হবে চা বাগান করতে। পাশাপাশি আমি এখানে চা তৈরির কারখানা করার ইচ্ছে আছে। যেন লালমাই পাহাড়ে উৎপাদিত চা কুমিল্লা জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যায়।
লালমাই পাহাড়ে চা চাষের বিষয়ে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, লালমাই পাহাড় চা চাষের জন্য অনেক উপযোগী। লালমাটির এ পাহাড়ে যদি বৃহৎ আকারে চা চাষের পরিকল্পনা করা যায় তাহলে এখান থেকে চা নিয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব। সে লক্ষ্য পূরণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আনন্দবাজার/এম.আর









