করোনার প্রভাবে এক মাসে কমেছে অর্ধেক। আমন মৌসুমের চাল সরবরাহের এ সংকটাপন্ন চিত্র বজায় থাকতে পারে বোরো মৌসুমেও। ফলে দেশের চালের সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছে অনেকেই।
জানা যায়, দেশের চালের সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে উত্তরবঙ্গের বগুড়া, দিনাজপুর, নওগাঁ, রংপুর, জয়পুরহাট ও কুড়িগ্রাম। স্বাভাবিক সময়ে এ ছয় জেলার প্রত্যেকটি মিল থেকে আমন মৌসুমের চাল সারা দেশে গড়ে সরবরাহ হয় দৈনিক ৬৫০-৭০০ ট্রাক করে। কিন্তু গত এক মাসে তা নেমে এসেছে ২৫০-৩০০ ট্রাকে। আমন মৌসুমের তুলনায় বোরো মৌসুমে সরবরাহ আরো বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বোরো মৌসুমের চাল সরবরাহের ক্ষেত্রেও এ সংকট বজায় থাকার আশঙ্কা দেখা গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকলগুলোয় শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি পরিবহন ও ক্রেতা সংকটও দেখা দিয়েছে। এ কারণে চাল সরবরাহ পরিস্থিতিতে এ অধোগতি দেখা যাচ্ছে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে চালের সরবরাহ যেমন অর্ধেকের বেশি কমেছে, তেমনি বোরো মৌসুম শুরু হলেও ধান কেনায় আগ্রহ পাচ্ছেন না মিলাররা। এ অবস্থায় মিলারদের এ সংকট পরোক্ষভাবে কৃষকদেরও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়ার শঙ্কা তৈরি করেছে।
নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিরোধ বরণ সাহা চন্দন জানান, আমন মৌসুমে সাধারণত ১০০ ট্রাকের নিচে সরবরাহ হলেও বোরো মৌসুমে প্রায় ১৫০ ট্রাকের বেশি সরবরাহ করে থাকে জেলাটি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক চালকল বন্ধ রয়েছে। বোরো মৌসুমের জন্য অনেক চালকল প্রস্তুতি নিতে সাহস পাচ্ছে না।
উত্তরবঙ্গের এই ছয় জেলা রংপুর, জয়পুরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলায় চাল সরবরাহ এখন একেবারেই বন্ধের উপক্রম হয়েছে। চালকলগুলো এখন বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু সেখানে ট্রাক ও পাইকারের সংকট নিয়ে এখন চিন্তায় পড়ে গেছেন এসব জেলার মিলাররা।
বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সারা দেশে ২২ হাজারের বেশি চালকল রয়েছে। এসব চালকলের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্য নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তেমনি মিল মালিকরাও বিপাকে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আনন্দবাজার/শহক









