- ৫ দফায় মেয়াদ বেড়েছে ৯ বছর
- আজ একনেকে ১০ প্রকল্প
অভাব, শংকা ও অত্যাচারের হাত থেকে মুক্তির যে চেষ্টা তা থেকে মানবসভ্যতার শুরু। কল্যাণমুলক প্রতিটি রাষ্ট্রের কর্তব্যই হচ্ছে তার জনগণের অধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন করা আর কোনো ব্যক্তির অধিকার লঙ্ঘিত হলে আইনানুযায়ী প্রতিকার পাওয়া তার অধিকার। এ অধিকারকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে আধুনিক সভ্যতা আর রাষ্ট্র কাঠামো।
তবে দেশে বছর বছর বেড়েই চলছে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা। যার কারণে দেশের বিচারালয়ের মামলার জট এখন মহাজটে পরিণত হয়েছে। মামলার ভারে জর্জরিত আদালতে প্রতিদিনই জমা হচ্ছে নতুন নতুন মামলা। দেশের সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন বিচারিক আদালতে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ মামলা বিচারাধীন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন ২০২২ সালে ৬ লাখ মামলা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আর বিচারকে নির্ভিঘ্ন করতে সরকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাপ্তরিক স্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য সেবার মান উন্নত করার উদ্যোগ নেয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নাপ্তরিক সুবিধাদি বৃদ্ধি ও কর্মসহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। দেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল আদালত ভবন নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ করে আইন ও বিচার বিভাগ।
মূল প্রকল্পটি ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ৭১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন করা হয়। জুন ২০১৪ মেয়াদের মধ্যে তা বাস্তবায়নের কথা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ৮৭০ কোটি টাকা করা হয়। পরে আবার সংশোধনের মাধ্যমে ২ বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০১৬ সাল করা হয়। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ করতে না পারায় দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় ২০১৮ সাল পর্যন্ত। তবে এবার ব্যয়ও বৃদ্ধি করে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু এবারও কাজ শেষ করা যায়নি। তাই তৃতীয় দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
নির্ধারিত মেয়াদের ৬ বছর পরে এসে জমি অধিগ্রহণজনিত ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকল্পটি আবারো বিশেষ সংশোধনির মাধ্যমে ২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। পরবর্তীতে ব্যয়বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ আরো ১ বছর বাড়িয়ে জুন ২০২১ নির্ধারণ করা হয়।
২০২১ সালের জুনে এসে দেখা যায় প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮৪৮কোটি টাকা। যা সর্বশেষ অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্ৰগতি ৯০ শতাংশ। এ পর্যায়ে প্রকল্পের মেয়াদ আরো ২ বছর বাড়িতে জুন ২০২৩ পর্যন্ত নির্ধারণ করে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ সংশোনিতে ব্যয় কমানো হয়েছে ২০৪ কোটি টাকা। ফলে মোট ব্যয় দাড়াচ্ছে ২ হাজার ২৬০কোটি টাকা, যা সর্বশেষ অনুমোদিত প্রাক্তলিত ব্যয় থেকে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ৪৩ একর জমি অধিগ্রহণ। ৫ লাখ বর্গমিটার ভবন নির্মাণ। ১২ হাজার মিটার ড্রেন ও ১৩ হাজার মিটার রানিং সীমানা প্রাচীর ও গেইট নির্মাণ। ৮৭ হাজার বর্গমিটার কম্পাউন্ড রোড, কার পার্কিং ও কালভার্ট নির্মাণ। ২.৫২ লক্ষ ঘনমিটার সাইট উন্নয়ন। ১২৬টি প্যাসেঞ্জার লিফট ক্রয়। ৪১টি সাব-স্টেশন, ৪১টি জেনারেটর, ৪১টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ক্রয়। ৭৯৫টি এজলাস ও কাঠগড়া স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট আসবাবপত্র ক্রয়। ৫০৪টি এজলাসের গ্লাস পার্টিশন স্থাপন এবং ৩টি গাড়ি ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কাজ।
এদিকে, সংশোধনের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে- ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি। দরপত্র সংক্রান্ত মামলা। নেত্রকোনা জেলায় চীফ জুডিসিয়াল আদালত ভবন নির্মাণ বাদ দেয়া। পাহাড়ি এলাকার জন্য স্বতন্ত্র নকশা। ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ বাদ দেয়া। এজলাসের সংখ্যা বৃদ্ধি। গ্যারেজ নির্মাণ, পার্টিশন স্থাপন অন্তর্ভুক্তি করা। অতিরিক্ত ৩০ হাজার গ্যালন ভূ-গর্ভস্থ জলাধার নির্মাণ। রাস্তা ও সীমানা প্রচীরের ব্যয় বৃদ্ধি। নতুন ১টি জিপ গাড়ি ক্রয়ের সংস্থান করা ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ আরো ২ বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









