সাগরের গর্জন দূর থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে সমুদ্র প্রেমিদের। সৈকতের বালিতে পা রাখলে কেটে যায় পথের ক্লান্তি। দখিনা মিষ্টি হাওয়ায় শীতল হয়ে যায় শরীর ও মন
মিরসরাইয়ে পর্যটন খাতে নতুন মাত্রাযোগ করেছে ডোমখালী সমুদ্র সৈকত। উপজেলার ভ্রমনপিপাসু মানুষরা নিত্যভিড় জমাচ্ছেন এ সৈকতে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে পর্যটকদের স্রোত। সাগরের গর্জন দূর থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে সমুদ্র প্রেমিদের। সৈকতের বালিতে পা রাখলে কেটে যায় পথের ক্লান্তি। দখিনা মিষ্টি হাওয়ায় শীতল হয়ে যায় শরীর ও মন।
উপজেলার সাহেরখালীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন সাগরতীরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এ নজরকাড়া সৈকতটি। একদিকে সুবিশাল সাগর, অপরদিকে বিস্তীর্ণ কেওড়ার সবুজ বাগান। ঘাটে বাঁধা থাকে সারি সারি ডিঙ্গি নৌকা। জেলেরা কেউ মাছ ধরে সাগর থেকে ঘাটে ফিরছে, কেউ আবার সাগরে যাচ্ছে। এমন নৈসর্গিক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার জন্য সেখানে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু নানা বয়সের মানুষ।
মিরসরাই উপজেলা পাহাড় আর ঝর্ণার জন্য দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের কাজ শুরু করার পর মেরিনড্রাইভের বাঁধ নির্মাণের কারণে বিশাল এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় সমুদ্র সৈকতের। সৈকতটির ব্যাপ্তি প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। উপজেলার সর্ব-দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত সৈকতটি ‘ডোমখালী সমুদ্র সৈকত’ নামে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
দেখতে অনেকটা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের এর মতো হওয়ায় প্রতিদিন শতশত পর্যটক পাড়ি জমায় ডোমখালী সমুদ্র সৈকতে। সৈকতের অনাবিল সৌন্দর্য্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ। সৈকতের ভেজা মাটিতে ছোট ছোট গর্তে মুখ তুলে থাকে কাঁকড়াগুলো। মানুষের আভাস পেলেই হুট করে লুকিয়ে পড়ে গর্তে।
পাখিদের কোলাহল, কিছুদূর পর পর সাগরের সাথে মিশে যাওয়া ছোট ছোট খালের অবিরাম বয়ে চলা, বাঁধের পূর্বে গ্রামীণ জনপদ আর দক্ষিনে সাগরের কোল জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন হৃদয়ে দাগ কাটে পর্যটকদের। সবুজ বনায়নজুড়ে দেখা যায় হরিণের পদচিহ্ন। কখনও কখনও দেখা মিলে হরিণেরও। সন্ধা হলেই শোনা যায় শিয়ালের ডাক। এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে যে কেউ।
স্থানীয় ১৬ নং সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের সাথে মেরিন ড্রাইভের বাঁধের কারণে বিশাল এলাকাজুড়ে সমুদ্র সৈকতের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসছেন। তবে মেরিন ড্রাইভ এখনো পুর্নাঙ্গ নির্মাণ হয়নি। পুর্নাঙ্গ হলে সৈকতের সৌন্দর্য আরো কয়েকগুন বেড়ে যাবে। তিনি আরো জানান, পর্যটন কর্পোরেশন যদি এখানে অবকাঠামো উন্নয়ন করে তাহলে এটি কক্সবাজার কিংবা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের মতো হয়ে যাবে। সরকার এখান থেকে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে।









