প্রাণঘাতী করোনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। বৈশ্বিক এই মহামারী ঠিক কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তা এখনো অনিশ্চিত। এতে করে মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ ঝুঁকেছেন অতিরিক্ত খাবার ক্রয়ে, যা তারা এই সময়ের জন্য মজুদ করছেন।
অন্যদিকে মহামারীর মধ্যে জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার সরবরাহের জন্য খাদ্যপণ্য রফতানি বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে বিভিন্ন দেশের সরকার। একই পথের পথিক এশিয়ার শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশগুলোও। ফলে এ অঞ্চল থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও ব্লুমবার্গ।
ভিয়েতনাম, চাল রফতানিকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় অবস্থান তৃতীয়। প্রতিকূল পরিবেশের কারণে কয়েক বছর ধরে দেশটিতে চাল উৎপাদনে মন্দা চলছে। তার ওপর পড়েছে বৈশ্বিক এই মহামারীর প্রভাব। ফলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটি সম্প্রতি খাদ্যপণ্যটির নতুন রফতানি বিক্রয় চুক্তি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত চালের রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে ভিয়েতনাম ছাড়াও চালের রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ কম্বোডিয়া। একই রকম আভাস দিয়েছে মিয়ানমার। অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবেলায় খাদ্যপণ্যটির রফতানি কমিয়ে দিতে পারে এই দেশটিও।
জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও এশিয়া অঞ্চলের চালের বাজার বিশ্লেষক ডেভিড ডাউই বলেন, এশিয়ার দেশগুলো সতর্ক না হয়েই চালের রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তারা কেবল নিজেদের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে মরিয়া।
অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে চালের রফতানি চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়ছে অনেকটা লাফিয়ে লাফিয়ে। মার্চে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের রফতানিমূল্য বেড়ে টনপ্রতি ৫১০ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৩ সালের পর থেকে পণ্যটির সর্বোচ্চ রফতানি মূল্য এটি।
ডেভিড ডাউই এ বিষয়ে বলেন, এখন চালের দাম বাড়লেও তা খুব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এদিকে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গম রফতানি সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া, কাজাখস্তান এবং ইউক্রেন। এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের খাবার নিশ্চিতকরণের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক









