- চড়ে গেছে মুরগির দাম
- অন্যান্য সবজি আগের মতোই
- বাড়তি ট্রাক ভাড়ার প্রভাব সবজির দামে
- ভরা শীতেও দাম না কমায় অসন্তোষ ক্রেতাদের
শীতের এখন মধ্যসময় চলছে বলা যায়। সব ধরনের সবজির সমারোহ এখন বাজারে বাজারে। ব্যবসায়ীরাও হরেক রকম সবজিপণ্য পসরা আকারে সাজিয়ে রাখছেন লোভনীয় সাজে। হাটে-বাজারে বিক্রিতারা সবুজ সবজির আড়ালে কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়। এক একটা বাজার যেন সবজি বাগান হয়ে উঠেছে। তবে ভরা শীত আর সবজির সমারোহেও যেন বিষণ্নতা ছেয়ে গেছে
কেননা, এই ভরা মৌসুমেও ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটাতে ব্যর্থ এবার শীতের সবজি। আগের চড়া দামেই কিনতে হচ্ছে সবজি। অনেকেই ভেবেছিলেন ভরা শীতে অন্তত সবজির দাম নাগলের মধ্যে আসবে। বাজারে গিয়ে সবজি নিয়ে কোনো টেনশন থাকবে না। তবে এমন প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না সহসা। সাধারণ ক্রেতাদের প্রশ্ন, শীত আর কত জেঁকে বসলে সবজির দাম কমবে।
সরেজমিনে রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শীতের ভরা মৌসুমেও অধিকাংশ সবজির দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। দুয়েকটা সবজির দাম কিছুটা কমে এলেও তা উল্লেখ করার মতো নয়। এর মধ্যে টমেটোর কথা অবশ্য উল্লেখযোগ্য। শীতের এই সবজি অনেকেরই ভীষণ পছন্দের। কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে নতুন টমেটোর চালান আসছে তোড়জোর নিয়েই। দিন যতই যাচ্ছে ততোই বাড়ছে সরবরাহ। বাজারে ভরপুর থাকায় এ সবজির দাম কমে গেছে। অনেকেই বলছেন, এখন টমেটোর দাম শীতের অন্যান্য সবজির মান রক্ষা করেছে। কারণ এ সময়ে মাত্র টমোটোই পাওয়া যাচ্ছে সহজে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাকা টমোটোর দাম আরো কমে আসবে। কেজি ৩০ টাকার নিচে নামতে আর দেরি নেই।
তবে বাজারে ক্রেতাদের অসন্তোষ ছড়াচ্ছে পেঁয়াজ। বাণিজ্যমন্ত্রী সপ্তাহ খানেক আগে আলটিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন সাতদিনের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম কমে যাবে। মন্ত্রীর সেই কথা রাখছে না পেঁয়াজ। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি দাম বেড়েছিল ১০ থেকে ২০ টাকা অবধি। দেশি-বিদেশি সব ধরনের পেঁয়াজের দামই বেড়েছিল রাজধানীর বাজারগুলোতে। গেল কয়েকদিন ধরে কিছুটা কমে এলেও তাতে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ক্রেতারা।
রাজধানীর বাজারে শুক্রবার ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। মধ্যমানের দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, আমদানি করা ভালোমানের পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়, নিন্মমানের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, আজ একটু কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। তবে গেল কয়েক সপ্তাহের তুলনায় তা অনেক বেশি। দাম বাড়ার কারণে আমাদের বিক্রিও কমে গেছে। দাম বাড়তি থাকায় আগে যে ক্রেতা দুই কেজি পেঁয়াজ নিতেন, তিনি এখন এক কেজি নিচ্ছেন। তবে মুড়ি কাটা পেঁয়াজ ইতোমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে, তাই সামনে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।
মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে। এর মধ্য দিয়ে টানা দুই সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ার প্রবণতায় কেজিতে বাড়লে ১৫ টাকা করে। আগে যে বয়লারের দাম ছিল ১৬০-১৬৫ টাকা কেজি, সেখানে বর্তমানে সেই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে। পাশাপাশি পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। সোনালির কেজি বিক্রি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অথচ গেল সপ্তায় এটা ছিল ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বয়লার মুরগির সরবরাহ কম। এ কারণেই দাম বাড়ছে। আর বয়লার মুরগির দাম বাড়ার কারণে সোনালী মুরগির দামও বেড়েছে। তবে খুশির কথা হচ্ছে, মুরগির দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজি কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তারা সবজির চড়া দামে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, শীত চলে এসেছে তবুও বাড়তি দামেই সবজি কিনতে হচ্ছে। অথচ অন্যান্য বছর শীত আসলে এসব সবজি বর্তমান বাজারের চেয়ে অর্ধেক দামে কিনতে পেরেছি। এ বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবজির চড়া দামই চলছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সবজির দাম বেশি থাকার আরেকটি কারণ হলো ট্রাক ভাড়া বেশি। বাড়তি ট্রাক ভাড়ার প্রভাব পড়েছে সবজির দামে। তবে অনেক বিক্রেতার প্রত্যাশা, ভালোভাবে শীত পড়লে আর নতুন সবজি পুরোপুরি বাজারে আসতে শুরু করলে এ দাম কমে যাবে। তখন বেচাবিক্রিও বাড়বে।
আনন্দবাজার/শহক









