দেশের দ্রুত বিকাশে বিস্ময় সৃষ্টি করা ওষুধ শিল্পখাত নিয়ে দৈনিক আনন্দবাজারের সঙ্গে কথা বলেছেন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির জগলুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনা ব্যাপক। দিন দিন এ শিল্প যেভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে তাতে সহজেই অনুমান করা যায় এ হার আরো বৃদ্ধি পাবে। একদিন বস্ত্র শিল্পকেও ছাড়িয়ে যাবে।
আনন্দবাজারকে তিনি বলেন, আমাদের দেশের উৎপাদিত ওষুধ দামে কম এবং মানে ভালো হওয়ায় বিদেশের মাটিতে চাহিদা দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে ওষুধ রফতানি করে বৃহৎ একটি স্থান দখল করে আছে। এটি এখন অন্যতম একটি রফতানিমুখী শিল্প। ক্রমবর্ধমান এ শিল্পের আকার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কর্মক্ষেত্রও। প্রয়োজন হচ্ছে অ্যাকাউন্টস, প্রকৌশল ও অন্যান্য বিভাগে দক্ষ লোকবলের। এতে করে বড় একটা দক্ষ জনশক্তির কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কমছে বেকারের সংখ্যা। সচল হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক চাকা।
ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনার বিষয় উল্লেখ করে প্রফেসর ডা. এহসানুল কবির বলেন, শুধু দেশেই নয় বিদেশে বাংলাদেশি ফার্মাসিস্টদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে দেশীয় ফার্মাসিস্টরা সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তারা সেখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। মেধাবীরা চাইলে বিদেশে তাদের ক্যারিয়ার গড়তে পারে।
ওষুধ শিল্পের সমস্যার কথা তুলে ধরে ডা. এহসানুল কবির বলেন, ওষুধ তৈরির মোট কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এতে করে গুণগত মান ঠিক রেখে ওষুধের দাম কম রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এছাড়া আরেকটি সমস্যা হলো নকল ওষুধ। দেশে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ ঢুকছে প্রতিনিয়তই। যদি এর লাগাম টেনে না ধরা হয় তাহলে এ শিল্প হুমকির মুখে পড়তে পারে। সরকারের উচিৎ নকল ওষুধের বিরুদ্ধে ঘনঘন অভিযান পরিচালনা করা।
আশার দিক উল্লেখ করে এসেনসিয়াল ড্রাগসের এমডি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যে একটি ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প পার্ক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ পার্কে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন করা হবে। ফলে এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়ে যাবে।
আনন্দবাজার/শহক









