স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও গতবছর দেশের বিভিন্ন জেলায় ধান কাটার মৌসুমে কৃষি শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছিল। করোনার কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এবছর এ সংকট আরো তীব্র হবে। শ্রমিক সংকটে সময়মতো বোরো ধান কাটতে না পারলে প্রায় ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টন চাল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) কৃষি অর্থনীতি বিভাগ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তির জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ধান কর্তন মৌসুমে শ্রমিক সংকটের সম্ভাব্য এ হিসাব দিয়েছে ব্রি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এবার দেশের ২৬ জেলায় বিভিন্ন মাত্রায় শ্রমিক সংকট রয়েছে। তবে যথেষ্ট উদ্বৃত্ত শ্রমিক আছে ১৬ জেলায়। আর উচ্চমাত্রার উদ্বৃত্ত শ্রমিক আছে ১৩ জেলায় এবং কিছুটা উদ্বৃত্ত আছে আট জেলায়।
জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নরসিংদী, ঝালকাঠি—এ ছয়টি জেলায় কৃষি শ্রমিকের তীব্র সংকট। এসব জেলায় ২০ শতাংশেরও কম শ্রমশক্তি কৃষিতে নিয়োজিত। শ্রমিক সংকটের অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার। এছাড়া ফেনী, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা, বান্দরবান, কুমিল্লা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কৃষি শ্রমিকের সংকট আছে।
শ্রমিক সংকট মেটাতে কৃষিযন্ত্র কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন এসিআই মোটরসের নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস। তিনি বলেন, একটি ইয়ানমার হারভেস্টার দিয়ে এক হেক্টর ধান কাটতে প্রয়োজন হয় ১৮ জন শ্রমিক। যেখানে এ পরিমাণ ধান কাটতে প্রথাগতভাবে ৬১ জন শ্রমিক লাগে। একদিনে ইয়ানমার হারভেস্টারের সাহায্যে তিন হেক্টর জমির ধান সর্বোচ্চ ৫৪ জন শ্রমিক দিয়েই কাটানো সম্ভব। কিন্তু প্রথাগতভাবে সেই পরিমাণ জমির ধান কাটতে ন্যূনতম ১৮৩ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুসারে আরো বেশিও প্রয়োজন হয়। ফলে কম্বাইন হারভেস্টারে ১২৯ জন
যন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের অভাব থাকা জেলাগুলোতে ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার সরবরাহে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান। তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে ১০০ কোটি টাকার কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহের কার্যক্রম চলছে। ৬৪টি জেলায় কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া শ্রমিক চলাচল বাড়াতে বেশকিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উদ্বৃত্ত এলাকায় তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
আনন্দবাজার/তা.তা









