বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের পরই রফতানিতে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দেখা দিয়েছিল জুতা শিল্প। ধারাবাহিকভাবে বিগত বছরগুলোতে ভালো প্রবৃদ্ধি পাচ্ছিল পণ্যটি। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতায় ভাটা পরে গেল বছর।
চামড়াজাত পণ্যটির উৎপাদন ও রফতানি আগে থেকেই কমার দিকেই ছিল, কিন্তু করোনা আসাতে তা আরও কমে গেছে। গত এক বছরের ব্যবধানে জুতার রফতানি প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে। সেই সাথে বৈশ্বিক মোট উৎপাদনে বাংলাদেশের অংশ ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম অবস্থানে নেমে এসেছে ।
বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দীন আহমেদ মাহিন জানান, ইতোমধ্যে বৈশ্বিকভাবে জুতা শিল্পের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার সংকুচিত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। বাংলাদেশের তুলনামূলক কম উৎপাদন খরচের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বেশিরভাগ বড় কারখানাই পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। তবে ইটিপির সমাধান হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ সকল বাজারেই রফতানি বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া আমাদের বিদেশী মিশনের কমার্শিয়াল উইংগুলো বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা নিলে রফতানি আরও বৃদ্ধি পাবে।
শুধু রফতানি নয়, ২০১৯ সালে জুতার বৈশ্বিক উৎপাদনেও বাংলাদেশের অংশ অনেক কমেছে। ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ইয়ারবুক-২০২০-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৪৬ কোটি ১০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদন করেছিল। কিন্তু গত এক বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে এ সংখ্যা কমে ৪০ কোটি ৭০ লাখ জোড়ায় নেমে এসেছে।
এই ব্যাপারে রফতানিকারকরা জানান, ফুটওয়্যার রফতানিতে প্রধান বাধা লিড টাইম অনেক বেশি হওয়া। সেই সাথে আমাদের দেশে ফুটওয়্যারের ক্রয়াদেশ আসলে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই জাহাজীকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বিলম্বিত হয়। কিন্তু গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের অংশ হতে হলে সঠিক সময়ে রফতানি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী সময়ে রফতানি পাওয়া বেশ কষ্টকর হয়। এক্ষেত্রে ভিয়েতনামসহ অনেক দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে চীনের শ্রম ব্যয়ের কারণে অনেক ব্র্যান্ড চীনে উৎপাদন থেকে সরে আসছে। আর সেই স্থানটি বাংলাদেশ নিতে পারলে দেশের জুতা শিল্প আরও সমৃদ্ধ হতে পারে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









