দিন আনে দিন খায় এমন শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা দেশে প্রায় দুই কোটি, যাদের নেই কোনো সঞ্চয়। বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রথম আঘাতটা তাদের ওপরই এসেছে। কয়েক দিন যাবত কর্মহীন জীবন পার করছেন নিম্ন আয়ের এসব মানুষ।
দেশে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। সবকিছু থমকে থাকায় কাজে বের হতে পারছেন না কুলি-মুটে, নির্মাণ ও আবাসন শ্রমিকসহ সব রকমের দিনমজুর।
দেশে মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক নানান কাজে নিয়োজিত। আবার অনানুষ্ঠানিক খাতের বড় একটি অংশই দৈনিক, চুক্তিভিত্তিক মজুরি এবং নিয়োগপত্র ছাড়াই কাজ করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক কাজ করছেন মুদি কিংবা বিভিন্ন শপিং মলে। এর পাশাপাশি পরিবহন, বন্দর, নির্মাণ ও আবাসন এবং হাটবাজার শ্রমিক রয়েছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন প্রায় দুই কোটি শ্রমিক, যারা এখন কর্মহীন দিন কাটাচ্ছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কেএএস মুরশিদ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এ অবস্থায় নিম্ন আয় ও খেটে হাওয়া মানুষ যাদের কিনা সঞ্চয় নেই, তাদের অবস্থা একেবারে শোচনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে! পরিবর্তিত পরিস্থিতি কতদিন চলতে পারে, সেটি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশে প্রায় ২ কোটি ৪২ লাখ মজুরি ও বেতনভোগী শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি পান ৮৩ লাখ ৩২ হাজার এর কাছাকাছি শ্রমিক। এছাড়া সাপ্তাহিক মজুরি পান প্রায় ১৭ লাখ ৭২ হাজার শ্রমিক। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ১ লাখর মত শ্রমিক দৈনিক কিংবা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মজুরি নিয়ে থাকেন। তবে এ তালিকায় আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত কিংবা পারিবারিক অর্থায়নে হেলপার হিসেবে যারা আছেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া কৃষি খাতে প্রায় ৭২ লাখ ৯২ হাজার শ্রমিক রয়েছেন।
সরকার কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের খাদ্যের যোগান দেওয়া জন্য কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বেশকিছু শ্রেণীর কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। সারা দেশে শহর ও গ্রামে ভিক্ষুক, ভবঘুরে, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানগাড়ি চালক, পরিবহন শ্রমিক, রেস্তোরাঁ শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদারসহ সংশ্লিষ্টদের তালিকা তৈরি করে খাদ্য সহায়তা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যার প্রেক্ষিতে ২৪ মার্চ থেকেই আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে খাদ্য ও নগদ সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী তা প্রতিনিয়ত আপডেট করা হচ্ছে। ডিসিদের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হলে আশা করছি কেউ সহায়তার বাইরে থাকবেন না।
আনন্দবাজার/শহক









