মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। উৎসবের আমেজে ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। আর বিভিন্ন সাইজের ইলিশে সয়লাব মৎস্য ঘাটগুলো। জেলেরা আড়তে ইলিশ বিক্রি করে আবারও ছুটছেন নদীতে। তবে ঘাটগুলো ইলিশে ভরপুর থাকলেও কমছে না দাম। এতে কিছুটা হতাশ ক্রেতারা।
আড়তদাররা বলছেন, দীর্ঘদিন নদীতে কাঙিত ইলিশ না পাওয়ার কারণে অনেক লোকসান গুণতে হয়েছিল আড়তদার ও জেলেদের। এ কারণে নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পেলেও দাম একটু বেশি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে দাম কমে যাবে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, রামগতি উপজেলার রামদয়ালে মেঘনা নদীতে জেলেরা আনন্দের সঙ্গে দলবেঁধে মাছ শিকার করছেন। মাছ ধরা ঘাটে বিক্রি করা এ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বুদু নামে এক জেলে বলেন, নদীতে মাছ বেশি পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি। এখন আমরা আগের মতো কোথায়ও বসে সময় নষ্ট করছি না। দল বেঁধে নদীতে মাছ শিকার করছি।
মো. মুরাদ মাঝি জানান, দীর্ঘদিন নদীতে মাছ না পাওয়ায় ঋণ, মহাজন ও মুদি দোকানের অনেক ধার-দেনা ছিল। এখন নদীতে ভরপুর ইলিশ পাচ্ছি। আড়তে ইলিশের দামও বেশি পাচ্ছি। তাই আগের ধার-দেনা পরিশোধ করতে শুরু করেছি। আশাকরি সব দেনা পরিশোধ করতে পারবো। খুচরা মাছ ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, বাড়িতে খাওয়ার জন্য ইলিশ কিনতে রামদয়াল মৎস্য ঘাটে এসেছি। কিন্তু ইলিশের দাম অনেক বেশি। এরপরও আটটি ইলিশ কিনেছি।
রামদয়াল মৎস্য ঘাটের আড়তদার হারুন ও বাবুল বলেন, প্রথম দিকে কাঙিত মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে আড়ৎদার ও জেলেরা অনেক সমস্যায় ছিলাম। দীর্ঘদিন পর এখন ভালো ইলিশ পাচ্ছে জেলেরা। পাইকারি ও খুচরা বাজারে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দামও একটু বেশি। ১ কেজি ওজনের চারটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। দেড় কেজি বা তারও বেশি চারটি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। আর ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির কম ওজনের চারটি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। তবে কয়েকদিনের মধ্যে দাম কমে যাবে।
লক্ষীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলেরা নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাচ্ছেন। আগের চেয়ে ইলিশের পরিমাণ আরও বেড়েছে। এখন থেকে প্রতিদিনই নদীতে ইলিশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। সামনের দিকে ইলিশের দাম কমতে পারে।
আনন্দবাজার/এম.আর









