শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারল্য সংকট কাটাতে ১৪ দিন মেয়াদে এ সুবিধা পাবে ব্যাংকগুলো। গতকাল সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার দিয়ে সব শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, ইসলামিক আর্থিক ব্যবস্থাকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এ তারল্য সুবিধা দেওয়া হবে। সোমবার থেকেই এটি কার্যকর হবে। শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলো সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে নিয়মিতভাবে এই সুবিধা গ্রহণের জন্য একটি ফর্মে আবেদন করতে পারবে। প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে এ ধরনের আবেদন ফর্মও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
শরিয়াহ্ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে গত রবিবার বিএফআইইউ, দুদক ও সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। চার মাসের মধ্যে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। পাশাপাশি ওইসব ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। মামলার বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ইসলামী ব্যাংক থেকে অধিক পরিমাণ ঋণ বিতরণের বিষয় উঠে আসে। বিষয়টি তদন্ত চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেওয়া হয়। ব্যাংকটির পাঁচজন গ্রাহকের পক্ষে ওই চিঠি প্রেরণ করা হয়। তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ ও আব্দুল্লাহ সাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি, এলএলএম বিভাগের শিক্ষার্থী শাইখুল ইসলাম ইমরান ও যায়েদ বিন আমজাদ ।
এই পাঁচ জনের ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় একাউন্ট রয়েছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সাধ্যমত ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেনদেন করে থাকি। বিগত ২৪ সেপ্টেম্বর পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টে উঠে এসেছে, ইসলামী ব্যাংক থেকে নভেম্বর মাসের ১ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা অসাধু চক্র তুলে নিয়েছে। এই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সংক্রান্তে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের আমানতকারী হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন। বিষয়টি আমলে নিয়ে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। একই সাথে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করছি। চিঠিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়। পরে প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তবে প্রতিবেদনটি নজরে আনার পর গত ৩০ নভেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টিকে রিট আকারে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ঘটনার অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
আনন্দবাজার/শহক









