রেলপথ সংস্কার জরুরি
মাত্র ৭০টি স্লিপার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ রয়েছে রেলপথে মধ্যপাড়া খনির পাথর পরিবহন। গত ১০ বছর আগে ২০১১ সালে স্লিপার চুরির ঘটনাটি ঘটে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল মধ্যপাড়া পাথরখনিতে। রেলে পাথর পরিবহন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত খরচে খনি থেকে উত্তোলনকৃত পাথর সড়কপথে পরিবহন করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের তথ্যমতে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী (পিপি) খনির ৮০ ভাগ পাথর রেলপথে পরিবহন করতে হবে। তবে ওই নির্দেশনা কাজে আসছে না। কারণ ২০১১ সালে পার্বতীপুরের ভবানীপুর থেকে মধ্যপাড়াখনি পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার রেলপথের জায়গায় ৭০টি স্লিপার (পাটাতন) চুরি হয়ে যায়। এরপর বন্ধ হয়ে যায় ওইপথে পাথরবাহী ওয়াগন চলাচল। খনি পর্যন্ত ওই রেলপথ নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯০ সালে। নির্মাণ শেষে ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চলে রেলপথে পাথর পরিবহন।
মধ্যপাড়া পাথরখনির উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) রাজিউন নবী জানান, রেলপথে পাথর পরিবহনে প্রতিটনে খরচ হয় মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ সমপরিমান পাথর সড়কপথে পরিবহনে খরচ হয় ১ হাজার ১০০ টাকা (মধ্যপাড়া-ঢাকা)। এতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুণতে হচ্ছে। পাথর পরিবহন খাতে ব্যাপক আর্থিক অপচয় হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে বিশ্বের উন্নতমানের পাথর হিসাবে স্বীকৃত মধ্যপাড়ার পাথরকে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অথচ রেলপথে তা পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সুরাহার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়ে আসছেন। তবে কোন সুরাহা হচ্ছে না।
মধ্যপাড়া পাথরখনি ২০২০-২১ অর্থবছরে ১২ লাখ ৮৭ হাজার টন বিক্রি করে আয় করেছে ২৯৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এ থেকে নিট মুনাফা হয়েছে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ২১ হাজার ৯৩২ টাকা। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ২২ কোটি টাকা মুনাফা করে। চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরেও খনিটি তিনবারের মতো লাভের মুখ দেখলো। খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)’র শতাধিক বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞ ও অর্ধশত দেশি প্রকৌশলী এবং সাড়ে ৭শ’ দক্ষখনি শ্রমিক প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মে. টন পাথর উত্তোলন করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাথরখনির একজন কর্মকর্তা জানান, পরিবহন ঠিকাদাররা সিন্ডিকেট করে সড়ক পথকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। পরিবহন মালিকদের কাছে বখরা ও বকশিষ নিচ্ছেন তারা।
রেলওয়ের পূর্ত বিভাগের উর্ধ্বতন উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, খনিমুখী ভবানীপুর-মধ্যপাড়া রেলপথে স্লিপার, ফিটিংস, পাথর কিছুই নেই। এ অবস্থায় ওই রেলপথে পাথর পরিবহন অসম্ভব। অথচ ওই রেলপথটি মেরামতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৩০ কোটি টাকা। এতে পাথরখনির ব্যাপক অর্থসাশ্রয় হবে। অবশ্য তিনি বলেন, রেলপথ সংস্কারের পাশাপাশি পাথর পরিবহন উপযোগী আরও চারসেট ওয়াগন প্রয়োজন। প্রতিসেটে ৪০ ওয়াগন থাকে। বর্তমানে দুই সেট ওয়াগন রয়েছে। যা পর্যাপ্ত নয়।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (সিএমই) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা বলেন, পাথর খনিমুখী রেলপথটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ সংকট সমাধানে খনি কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা ব্যয়নির্বাহ করলে অতিদ্রুত রেলপথটি সংস্কার করা যাবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি
লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু দাউদ মোহাম্মদ ফরিদুজ্জামান বলেন, রেলপথে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পদ্মা রেল সেতুসহ দেশের মেগা প্রকল্পগুলোতে বিশ্বের উন্নত মানের পাথর হিসাবে স্বীকৃত মধ্যপাড়ার পাথরকে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









