করোনাভাইরাস নিয়ে সেই শুরু থেকে নানা ‘বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দিয়ে আসা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এতদিন পরে বলছে, বাতাসে করোনা রোগটি ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে!
কিন্তু দুদিন আগেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা অন্য বিজ্ঞানীদের বায়ুবাহিত বিষয়ক তথ্য উড়িয়ে দেন। সংস্থাটির গাইড লাইন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ২৩৯ বিজ্ঞানী তাদের কাছে চিঠি লিখলে ডব্লিউএইচও’র সংক্রমণ রোধ এবং নিয়ন্ত্রণের বিভাগের প্রধান বেনেডেটা অ্যালেগ্রানজি নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, ‘করোনার ক্ষেত্রে বায়ুবাহিত বিষয়টি সম্ভাব্য হিসেবে আমলে নিতে গত কয়েক মাস ধরে আমাদের বলা হচ্ছে। কিন্তু এ ব্যাপারে নিশ্চিত কোনো নজির বা প্রমাণ নেই। তাই বিতর্ক হচ্ছে।
সেই বেনেডেটা গতকাল মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, করোনার বায়ুবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেটি সুনির্দিষ্ট নয়। তবে করোনার বায়ুবাহিত সংক্রমণ হতে পারে নির্দিষ্ট স্থানে- বিশেষ করে চাপা জনাকীর্ণ পরিবেশে। তাই এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
ডব্লিউএইচও’র ওয়েবসাইটের গাইডলাইন এখনো আগের মতোই আছে। করোনার সংক্রমণের ধরণ বিভাগে আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে এভাবে লেখা দেখা গেছে, বর্তমান প্রমাণ অনুযায়ী করোনা ভাইরাস প্রাথমিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেট ও কন্টাক্ট রুটের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। চীনের ৭৫ হাজার ৪৬৫টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে বায়ুবাহিত বিষয়ক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
করোনার বায়ুবাহিত তথ্যের ব্যাপারে বাংলাদেশের জাতীয় নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. উজ্জ্বল কুমার মল্লিক গত সোমবার জানান, করোনা বায়ুবাহিত হয়ে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা উচিত। করোনা বাতাসের মাধ্যমে জলকণা হিসেবে ছড়িয়ে থাকতে পারে। বায়ুবাহিত ভাইরাস ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র জলকণার মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবাহিত হয়।
অনেকে বলছেন যে তারা বাইরে বের হচ্ছেন না। কিন্তু তবু বাসায় থেকে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন। অসুস্থ মানুষের ড্রপলেটের জলকণাগুলো যখন ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র হয়, তখন বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এজন্য এখন আমাদের ঘরের ভেতরেও সতর্ক থাকা উচিত।
মহামারীর ক্ষেত্রে এই বায়ুবাহিত বা এয়ারবর্ন ট্রান্সমিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। জনাকীর্ণ পরিবেশের বায়ুচলাচল ব্যবস্থা খারাপ হলে খুবই দ্রুত অনেক মানুষ করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলেও ঘরের ভেতরে মাস্ক প্রয়োজন হতে পারে। তখন স্কুল, নার্সিং হোম, বাসাবাড়ি এবব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাতাস চলাচলের নতুন শক্তিশালী ফিল্টারের প্রয়োজন পড়তে পারে।
আনন্দবাজার/এইচ এস কে









