ধানের বাজার চড়া। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে ধান বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন মোকামে। সরবরাহ কম থাকায় মিলগুলোতে চালের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে কুমিল্লায়।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে বুড়িচংয়ের রামপুর থেকে কংশনগর পর্যন্ত অটো রাইসমিল রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। ধান থেকে চালে রূপান্তর করতে এসব মিলে কাজ করছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শ্রমিক পাশাপাশি অতিরিক্ত শ্রমিক কাজ করেন। তবে, এবার আউশের ভরা মৌসুমেও কর্মসংস্থান বাড়েনি এসব রাইস মিলে। কারণ হিসাবে মিলের মালিক শ্রমিকরা জানান, ধান সরবরাহ সংকট থাকায় চালের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
লামিয়া রাইস মিলের শ্রমিক আবু সিদ্দিক জানান, অন্যান্য বছরে এ আউশের মৌসুমে আমাদের পাশাপাশি অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়েও কাজ করতে হয়েছে। তবে চলতি বছর ধান সংকট এবং অতিরিক্ত দামের কারণে মালিকপক্ষ ধান সংগ্রহ করতে পারছে না। তাই আমাদের অতিরিক্ত শ্রমিকেরও প্রয়োজন হয় না এবং আমাদের মত মজুরি দিতে মালিকপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে।
সোনালী রাইস মিলের মালিক জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকার আমাদেরকে যে ধান সংগ্রহের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তার চেয়ে ৩ থেকে ৪শ টাকা বেশি দিয়েও আমরা ধান সংগ্রহ করতে পারছি না। মোকামে ধানের সংকট এবং আমাদের সরবরাহ খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের মিলে লোকসানের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। রাইস মিল টিকিয়ে রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান তিনি।
তাজমহল অটো রাইস মিলের মালিক ইমাম হোসেন জানান, সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দিয়েও আমরা মোকাম থেকে ধান ক্রয় করতে পারছি না। এ ধান সংকটের কারণে আমাদের মিল বন্ধের পথে।
ডলার ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। মিনিকেট ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিনিগুড়া ১১৮ থেকে ১২০ টাকা ও মোটা চালে ৪৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। মিল থেকে চাল বাজারে আসলেও দাম বাড়ার নানা অজুহাত বিক্রেতাদের।
একটি অটো রাইস মিলে ধান ক্রাশিং করার জন্য ডায়ারের ধারণক্ষমতা ৪শ’ থেকে ১২শ’ মণ পর্যন্ত। দিনে তিনবার পর্যন্ত একটি ডায়ারে ধান সেদ্ধ করা হয়। ৬শ’ মণ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ডায়ারে ধান প্রস্তুত করতে প্রতিদিন একটি মিলের প্রয়োজন ১৮শ’ মণ ধান। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে করছে এসব মিলগুলো। মোকাম থেকে এসব মিল পর্যন্ত ধান আসতে ব্যয় বেড়েছে। তবে সরবরাহ সংকট থাকায় মিলগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
কুমিল্লায় আউশের ধান তুলতে শুরু করেছেন কৃষকরা। বাজারে ধানের মন ১২শ থেকে ১৫শ টাকা পর্যন্ত। নোয়াখালী কুমিল্লার বিভিন্ন মোকামগুলোতে চাহিদামত থান পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এদিকে রাইসমিলগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা বলছেন, উৎপাদন কম তাই ঠিক মত বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছে মালিকপক্ষ।









