প্রথম থেকেই নগরীর অনেক জায়গায় কাজই করেনি না এই ফ্রি ওয়াই-ফাই। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীসহ তরুণ ও যুবকদের এ নিয়ে অনেক আগ্রহ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ধীরে ধীরে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এ থেকে। এই অবস্থায় ২০২১ সালে প্রকল্পের দায়িত্ব বুঝে দেওয়া হয় সিলেট সিটি করপোরেশনকে। এরপর থেকে নগরে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা অকার্যকর।
দেশের প্রথম ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলো সিলেট। নগরীর ১২৬টি এক্সেস পয়েন্টে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর মধ্য দিয়ে ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দেশের এ ‘আধ্যাত্মিক’ নগরী। শুরুতে এর তত্ত্বাবধানে ছিলো বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। কিন্তু পরবর্তীতে সিলেট সিটি করপোরেশনের এ দায়িত্ব অর্পণের পর সেই ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থা অকার্যকর। ব্যবহার করতে গেলে দেখায় ‘ডিজেবলড’। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হলে প্রতি মাসে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা যোগান দিতে পারছে না সিলেট সিটি করপোরেশন।
২০১৯ সালের ২৭ জুন ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’র উদ্বোধন করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় চালু হয় ‘পাবলিক ওয়াই-ফাই জোন’। ওই বছর উদ্বোধন করা হলেও এর ব্যবহার শুরু হয় ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সিলেটকে ‘ওয়াইফাই সিটি’ আখ্যা দিয়ে এর ইউজার নেম দেন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও পাসওয়ার্ড হিসেবে রাখেন জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’। সিলেট নগরীর ৬২টি এলাকার ১২৬টি স্থানে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালুর মধ্য দিয়ে ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’র বাস্তবায়ন শুরু হয়। এতে নগরীর যে কোনো বাসিন্দা ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে জানানো হয়।
উদ্বোনকালে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, এসব এক্সেস পয়েন্টের প্রতিটিতে একসঙ্গে ৫০০ জন যুক্ত থাকতে পারবেন। এরমধ্যে একসঙ্গে ১০০ জন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টের চতুর্দিকে ১০০ মিটার এলাকায় ব্যান্ডউইথ থাকবে ১০ মেগাবাইট/ সেকেন্ড। কিন্তু শুরু থেকেই এই ‘পাবলিক ওয়াই-ফাই’র গতি ছিলো অন্যান্য অপারেটরের তোলনায় খুবই কম। প্রথম থেকেই নগরীর অনেক জায়গায় কাজই করেনি না এই ফ্রি ওয়াই-ফাই। প্রথমদিকে শিক্ষার্থীসহ তরুণ ও যুবকদের এ নিয়ে অনেক আগ্রহ থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ধীরে ধীরে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এ থেকে। এই অবস্থায় ২০২১ সালের ২১ মার্চ ওই প্রকল্পের দায়িত্ব বুঝে দেওয়া হয় সিলেট সিটি করপোরেশনকে।
এরপর থেকে নগরে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা একেবারেই অকার্যকর। নগরবাসী অনেকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আগে ধীর গতিতে হলেও বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারছিলেন। কিন্তু গত ৮-৯ মাস ধরে তা আর ব্যবহার করতে পারছেন না।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের কনসালটেন্ট মনিরুজ্জামান তনু এ বিষয়ে দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, চালুর পর থেকে প্রায় এক বছর আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা পরিচালনা করেছিল। পরীক্ষামূলক এক বছর চালুর পর সেই দায়িত্ব বুঝে দেয়া হয় সিটি করপোরেশনকে। এরপর এ বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আর তদারকি করেনি।
এ প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আলম দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবার দায়িত্ব আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল ঠিক। কিন্তু এটা চালাতে যে খরচ দরকার তা আমরা আইএসপিকে (ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান) টাকা দিতে পারছি না। তাই এখন নগরবাসী বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারছে না। তিনি বলেন, নগরবাসীকে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা দিতে গেলে প্রতিমাসে ৭ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু সিটি কর্তৃপক্ষ এই ৭ লাখ টাকা যোগান দিতে পারছে না। এই সেবা চালু রাখতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আমাদের স্পন্সর খোঁজার তাগিদ দিয়েছেন।
আনন্দবাজার/শহক









