- পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ
- অভিযোজন বিনিয়োগে আগ্রহ-উৎসাহ
বৈশ্বিক কারণে বাংলাদশের জলবায়ুর ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মিশরে জলবায়ু বিষয়ক সম্মেলন কপ২৭ এর প্রেসিডেন্সিকে তিনি এ কথা জানান। গত মঙ্গলবার শারম এল শেখে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কপ২৭ প্রেসিডেন্ট সামেহ শউকরির সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন সম্মেলনটি ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য অর্থায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে আসতে সক্ষম হবে। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদে এসব কথা জানা যায়। মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রীরা উভয় পক্ষের মধ্যে সংসদীয় যোগাযোগের বিষয়ে জোরদার করতে সম্মত হন।
ক্ষয়-ক্ষতির সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আলোচনা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত জন কেরির সঙ্গেও বৈঠক করেন। তারা পরে ঘানার নেতৃত্বে ভি২০ (ভালনারেবল টুয়েন্টি গ্রুপ অফ ফাইন্যান্স মিনিস্টারস) এর অন্যান্য প্রতিনিধিদের সাথে একটি বৈঠক করেন। মার্কিন বিশেষ দূত গ্লোবাল মিথেন প্রতিশ্রুতিতে যোগদানের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং মিথেন হ্রাসে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কিছু অর্থায়নের বিষয়ে উল্লেখ করেন। মোমেন বাংলাদেশে কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্কের জন্য মার্কিন সহায়তার প্রশংসা করেন। তারা জলবায়ু ঝুঁকির জন্য গ্লোবাল শিল্ড তৈরির দিকে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এর আগে ড. মোমেন ডাচ অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রী মার্ক হারবারসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের পানি সম্মেলনে পানির ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় চ্যাম্পিয়নস গ্রুপের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। দুই মন্ত্রী বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ এর আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়েও মতবিনিময় করেন।
মিশরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মনিরুল ইসলাম এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. আবদুল মুহিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজ আয়োজিত পার্শ্ব-ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত তারিক এ. করিমের সভাপতিত্বে “অ্যাড্রেসিং ক্লাইমেট চেঞ্জ থ্রু রিজিওনাল কোঅপারেশন ইন দ্য বে অফ বেঙ্গল” শিরোনামের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। ড. মোমেন ম্যানগ্রোভ বনের ক্ষতি, সামুদ্রিক লিটার এবং প্লাস্টিক, শব্দ দূষণ, প্রবাল প্রাচীর সঙ্কুচিত হওয়া এবং নতুন চিহ্নিত 'মৃত অঞ্চল' এর মতো প্রতিকূল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে একসাথে কাজ করার সুপারিশকে সমর্থন করেন। অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত মোঃ আব্দুল মুহিত ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. সালেমুল হক।
ড. মোমেন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ‘স্থানীয় শাসন ও উদ্ভাবনী জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন’ শীর্ষক এক পার্শ্ব-ইভেন্টে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এখানে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে অভিযোজনের জন্য অর্থায়ন বাড়ানোর গুরুত্ব এবং বেসরকারি খাতকে অভিযোজনে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করার জন্য সরকারি খাতের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম।









