গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ও দেউলিয়াবাড়ী এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ব্যানার ফেস্টুনে ঢাকা পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই ভবনগুলোতে এসব সাঁটানো হয়েছে।
আগামী ১৫ অক্টোবর কোনাবাড়ী আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। মুলত: ওই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পদ-পদবী প্রার্থীরা নিজেদের পরিচয় জানান দিতে একধরনের প্রতিযোগিতা করে পোস্টার ফেস্টুনে ভবনগুলো ঢেকে দিয়েছেন। কোনাবাড়ী ডিগ্রী কলেজ ও দেউলিয়াবাড়ি অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন এসব পোস্টার ফেস্টুনের ছড়াছড়ি।
সরেজমনি দেখা গেছে, কোনাবাড়ী ডিগ্রী কলেজ মাঠের চারপাশে, ক্যাম্পাসের মূল ভবন, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ চারদিকে পোস্টার এমনভাবে সাঁটানো হয়েছে যে, দেখে বোঝার উপায় নেই এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্যাম্পাস।
২০০৩ সালে কোনাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। এর ১০ বছর পর ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের পর এলাকাটি মহানগরের আওতাভুক্ত হয় এবং কোনাবাড়ী থানা এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এর প্রায় ১০ বছর পর আগামী ১৫ অক্টোবর কোনাবাড়ী থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হচ্ছে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সড়কের উড়ালসেতু, বৈদ্যুতিক খুঁটি, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেয়াল সাঁটিয়ে অবশেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন পোস্টার ফেস্টুনে ঘিরে দেয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডলের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে এসব পোস্টার, ফেস্টুনে।
কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন বলেন, আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্মেলনের জন্য মাঠের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ভবনে পোস্টার, ফেস্টুন ঝুলানোর অনুমতি দেয়া হয়নি। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা তা না মেনে ক্যাম্পাসের সবগুলো ভবনে পোস্টার, ফেস্টুন ঝুলিয়ে দিয়েছে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল বলেন, মহানগর আওয়ামীলীগ কমিটি গঠনের পর এই প্রথম কোনো থানা কমিটির সম্মেলন হতে যাচ্ছে। তাই নেতা-কর্মীদের মধ্যেও বাড়তি উদ্দীপনা রয়েছে। তবে চর দখলের মতো, কলেজ ভবনে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে জায়গা দখল করা নেতা-কর্মীদের ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের জন্য পরিশ্রমকে মূল্যায়ন করে আমরা নেতা নির্বাচিত করব। ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে নেতা হওয়ার সুযোগ নেই। সরেজমিনে দেখে অস্বাভাবিক কিছু পেলে সমাধান করব।
সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির আহবায়ক তোফাজ্জল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কিছু অতি উৎসাহী নেতা-কর্মী এ ধরনের কাজ করেছে।
কোনাবাড়ী কলেজের একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার কলেজ খোলা। কিন্তু ব্যানার-ফেস্টুন যেভাবে লাগানো হয়েছে, তাতে ক্লাসে প্রবেশ করাটাই কষ্টকর হয়ে যাবে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক পোস্টার লাগানো কতোটা যৌক্তিক। এটি দেখতেও খারাপ লাগছে। আমরা চাই দ্রুত এসব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা হোক।
সম্মেলনে সভাপতি পদে ৩ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আলোচনা চলছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মুখে।









