চীনের উহানে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম করোনা উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল । শুক্রবার পর্যন্ত কেটে গেছে ১৩৬ দিন। আর এই চার মাসে বিশ্ব থেকে কেড়ে নিয়েছে ৩ লাখেরও বেশী মানুষের প্রাণ। আজও ইউরোপ, আমেরিকাক সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনার তান্ডবে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে।
জানুয়ারির শেষের দিকে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। দ্রুত চীনের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। তবে করোনায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ লাশের পরিণিত হলেও আবিষ্কার হয়নি কোনও চিকিৎসা বা ওষুধ। কিন্তু প্রতিনিয়ত আশার বাণী শোনাচ্ছেন করোনার ভ্যাকসিন ও প্রতিষেধক তৈরির শতাধিক গবেষক ও বিজ্ঞানীরা।
কিন্তু বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে অন্য কথা। তারা বলছে, হয়তো এই ভাইরাস কখনই নির্মূল হবে না। প্রাণঘাতী এইডসের মতো এই ভাইরাসকে সঙ্গী করেই হয়তো চলতে হবে মানব সভ্যতাকে। এমন অবস্থা আরও থমকে যাচ্ছে পুরো বিশ্ব।
আশা-নিরাশার এমন দোলাচলে প্রাণ কাড়ার মিশনে থেমে নেই করোনাভাইরাস। চীনে গত পাঁচ মাসে এই ভাইরাস মাত্র ৪ হাজার ৬৩৩ জনের প্রাণ কাড়লেও মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে আমেরিকা এবং ইউরোপকে।
বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ লাখ ৭০ হাজারের বেশি এবং প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ৩ লাখের বেশি মানুষের।এরমধ্যে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত ১৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৬ জন এবং মারা গেছে ৮৫ হাজার ২৬৮ জন। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৮৩ জন। বাকি ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩৫ জন এখনও করোনার চিকিৎসা নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বে সর্বাধিক প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাজ্যে; দেশটিতে মারা গেছেন ৩৩ হাজার ৬১৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ১৫১ জন। যুক্তরাজ্যের পর মৃত্যুপরীতে পরিণত হয়েছে ইতালি; দেশটিতে প্রাণহানি ঘটেছে ৩১ হাজার ১০৬ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১০৪ জন। তবে দেশটিতে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক লাখ ১২ হাজার ৫৪১ জন।
এরপর মৃত্যুতে শীর্ষে আছে স্পেন; দেশটিতে মারা গেছেন ২৭ হাজার ১০৪ জন। স্পেনে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৫ জন। তবে সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৮৩ হাজার ২২৭ জন। স্পেনের মতোই ইউরোপের আরেক উন্নত দেশ ফ্রান্সেও মারা গেছেন ২৭ হাজার ৭৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২৫ জন।
এছাড়া ব্রাজিল ১৩ হাজার ২৪০, বেলজিয়াম ৮ হাজার ৯০৩, জার্মানি ৭ হাজার ৮৬১, ইরান ৬ হাজার ৭৮৩ জনের প্রাণহানি নিয়ে করোনায় মৃত্যুর শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় আছে।
এদিকে, ইউরোপের পর করোনা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এশিয়াতে। বর্তমানে এই মহাদেশে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২৩ হাজার ৪০৯ জন। এদিকে আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ভারত। করোনার নতুন হটস্পট হতে যাচ্ছে ১৩০ কোটি মানুষের দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই দেশ।
আনন্দবাজার/শহক









